শিরোনাম
রাজবাড়ীসহ তিন জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় হুইপ অপুকে আব্দুস সালাম মিয়ার অভিনন্দন রাজবাড়ীতে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গৃহবধূর ব্যাগ ছিনতাই, ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমিতে রেলওয়ে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ফরিদপুর-রাজবাড়ী-গোপালগঞ্জের উন্নয়ন-আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব পেলেন হুইপ অপু পাংশায় চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ, কিশোরীর মৃত্যু রাজবাড়ী জেলা পুলিশে পাংশা সার্কেলের নতুন সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুর রহমানের যোগদান দলীয় নেতার কথায় সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন, সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর গোয়ালন্দে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অতিরিক্ত টেস্টের অভিযোগ, বিপাকে নিম্নআয়ের রোগীরা রাজবাড়ীতে জামিন ও জজ আলীর মাগফেরাত কামনায় দোয়া, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেতনতা সভা বালিয়াকান্দিতে কল্পনা রানীর পরিবারের পাশে এমপি হারুন অর রশিদ

গোয়ালন্দে কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের খোয়া, পাথরের আড়ালে রাবিশ!

স্টাফ রিপোর্টার / ৫৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার:রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়ক ও গাইড ওয়ালে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণে পাথরের আড়ালে নিম্নমানের খোয়ার রাবিশ রেখে তা দিয়েই ঢালাই করা হচ্ছে। বারবার অভিযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও কাজের মানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি তাদের।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তবে ঢালাইয়ের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, পাথরের নিচে খোয়ার রাবিশ রাখা হয়েছে এবং সেই রাবিশ দিয়েই ঢালাইয়ের কাজ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, দূর থেকে যেন পাথর দিয়ে কাজ করা হচ্ছে মনে হয়, সে জন্য রাবিশের ওপর পাথর রাখা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বর্তমান ঠিকাদার সোবহান বলেন, আপনারা যা দেখছেন, তা সত্য। পাথরের নিচে খোয়া রাখা হয়েছে এবং খোয়া দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, গোয়ালন্দ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এভাবে কাজ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, কর্মকর্তারা অনুমতি না দিলে তারা এভাবে কাজ করার সাহস পেতেন না। এ সময় তিনি প্রতিবেদককে একসঙ্গে চা খাওয়ারও প্রস্তাব দেন।

অভিযোগের বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আজ বন্ধের দিন হওয়ার সুযোগে তারা এ ধরনের অপকর্ম করছে। তবে তার নির্দেশে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

উজানচর ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনে যাতায়াতের জন্য সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক ও প্যালাসাইডিং (গাইড ওয়াল) নির্মাণের কাজ পায় বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে রাজবাড়ীর সোবহান নামে এক ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে কাজটি পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নির্মাণকাজে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। এছাড়া কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারের কাছ থেকে কম মূল্যে প্রকল্পটি কিনে নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ওপেন সিক্রেট হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।

এর আগে গত ৪ মে ২/৩ নম্বর ইট দিয়ে কাজ হচ্ছে শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ইট পরিবর্তন করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, নামমাত্র ইট পরিবর্তন দেখানো হলেও পুরোনো নিম্নমানের ইট দিয়েই পরবর্তী সময়ে কাজ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে গত ১৫ ও ১৬ জুলাই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সড়ক ও গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঠিকাদারপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

প্রকল্পটির কাজ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকিতে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকৌশল দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ওখানে যাওয়ার উপায় নেই। যিনি কাজ পেয়েছেন, তার কাছ থেকে জোর করে কাজ নিয়ে একজন কাজ করছেন। তিনি নিজেকে মন্ত্রীর লোক পরিচয় দিয়ে জোর করে কাজ করছেন এবং আমাদের কথা শোনেন না। তাই অফিসের কেউ সেখানে যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, পুরো কাজটাই নিয়মবহির্ভূতভাবে করা হয়েছে। রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। শুনেছিলাম খোয়া ও পাথর দিয়ে মজবুত ভিত্তি করা হবে, কিন্তু সেখানে বেশি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। গাইড ওয়ালেও শুধু ইটের ওপর সিমেন্ট-বালুর প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। কোথাও রড ব্যবহার করা হয়নি। প্রথমে রাবিশ রেখে তার ওপর পাথর দেওয়া হয়েছে। এখন সেই রাবিশ দিয়েই কাজ করা হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা রাজিব সরদার বলেন, কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম হয়েছে। দুই নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণের পর থেকেই রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। গাইড ওয়ালে ফাটল ধরেছে। এলাকাবাসী বারবার বাধা দিলেও তাদের কথা শোনা হয়নি। বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী গাইড ওয়ালের নিচ থেকে ৫০০ মিলিমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ৩৭৬ মিলিমিটার পুরু ইটের গাঁথুনি এবং পরবর্তী ৫০০ মিলিমিটার অংশে ২৫০ মিলিমিটার পুরু গাঁথুনি দেওয়ার কথা। প্রতি তিন মিটার অন্তর ১৫০×১৫০ মিলিমিটার প্রি-কাস্ট আরসিসি পোস্ট এবং ২০০×১৫০ মিলিমিটার ক্যাপিং বিম নির্মাণেরও নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তাদের আরও অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত দূরত্বে প্যালাসাইডিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক কম দূরত্বে তা নির্মাণ করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোট ব্যবহার না করে অল্প পরিমাণ ট্যাক কোট প্রয়োগ করায় ইতোমধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে বলেও তারা জানান।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের পাশেই মরা পদ্মা নদী থাকায় এখানে শক্তিশালী প্যালাসাইডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নমানের নির্মাণের কারণে বর্ষা মৌসুমে নতুন সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগেও একই স্থানে নির্মিত একটি সড়ক এক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৌর ইঞ্জিনিয়ার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। অনিয়ম হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্ত করা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg