শিরোনাম
গোয়ালন্দে ঠিকাদারের গাফিলতিতে থমকে আছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সড়ক রাজবাড়ীতে প্রয়াত বিএনপি নেতা এম. এ. খালেকের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল লালনের মানবতাবাদী দর্শন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজবাড়ীর সূচনা শেলী রাজবাড়ীতে ৫২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ জন গ্রেপ্তার রাজবাড়ীসহ তিন জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় হুইপ অপুকে আব্দুস সালাম মিয়ার অভিনন্দন রাজবাড়ীতে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গৃহবধূর ব্যাগ ছিনতাই, ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমিতে রেলওয়ে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ফরিদপুর-রাজবাড়ী-গোপালগঞ্জের উন্নয়ন-আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব পেলেন হুইপ অপু পাংশায় চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ, কিশোরীর মৃত্যু

দলীয় নেতার কথায় সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন, সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর

স্টাফ রিপোর্টার / ৫০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

0Shares

ডেস্ক রিপোর্ট : দলীয় নেতাদের সুপারিশ বা কথায় সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের সংস্কৃতি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সুশাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়ন হওয়া উচিত নির্দিষ্ট নীতিমালা, প্রশাসনিক প্রয়োজন, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে। রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের প্রতি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা গোষ্ঠীর সুপারিশেই তার পদায়ন কিংবা বদলি নির্ধারিত হতে পারে, তাহলে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরপেক্ষতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

কেন দলীয় প্রভাবে বদলি-পদায়ন অযৌক্তিক?
প্রথমত, এতে জবাবদিহিতার সংকট তৈরি হয়। রাজনৈতিক নেতাদের ইচ্ছা বা সুপারিশে কর্মকর্তাদের বদলি হলে তারা জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার পরিবর্তে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে উৎসাহিত হতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, এটি সুশাসনের পথে বড় বাধা। যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন হলে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা বঞ্চিত হতে পারেন। এতে প্রশাসনের অভ্যন্তরে হতাশা তৈরি হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তৃতীয়ত, এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরকারি প্রশাসন দল-মত নির্বিশেষে জনগণকে সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক প্রভাব প্রশাসনের ওপর অতিরিক্তভাবে বিস্তার লাভ করলে এই নিরপেক্ষ চরিত্র দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

চতুর্থত, রাজনৈতিক সুপারিশকে কেন্দ্র করে বদলি-পদায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। কোনো পদকে সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে যেতে রাজনৈতিক যোগাযোগ বা প্রভাব ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সুস্পষ্ট প্রশাসনিক নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাজ হওয়া উচিত প্রশাসনকে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া; ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে কর্মকর্তাদের পদায়ন-বদলিতে প্রভাব বিস্তার করা নয়।

জনগণের আস্থা ধরে রাখতে প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বদলি-পদায়ন নিশ্চিত করা গেলেই একটি কার্যকর, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সংগৃহীত 

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg