শিরোনাম
পাংশায় পদ্মার নালে ফিতা ধুতে গিয়ে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু গোয়ালন্দে জমিতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়ার পোড়াভিটা দখলমুক্ত করতে জমি পরিমাপ শুরু গোয়ালন্দে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স না থাকায় রাজধানী বেকারিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের রাজবাড়ীতে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৮ আসামি গ্রেপ্তার কালুখালীতে কৃষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন শেখ গ্রেপ্তার পরকীয়ার অভিযোগে ভাঙল ২৪ বছরের সংসার, নিঃসঙ্গ রফিকের দিন কাটে হতাশায় কালুখালীতে ঢাকা শিশু সংসদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন, পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ গোয়ালন্দে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

গোয়ালন্দে ঠিকাদারের গাফিলতিতে থমকে আছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সড়ক

স্টাফ রিপোর্টার / ১১২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নির্মাণকাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একটি সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। প্রায় এক বছর ধরে সড়কের ইট তুলে খোয়া ফেলে রাখায় বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গোয়ালন্দ উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন সড়ক থেকে উজানচর জিসি হয়ে ফকিরপাড়া পর্যন্ত ২ হাজার ৬৮৫ মিটার সড়কে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের কাজের কার্যাদেশ পায় চুয়াডাঙ্গার জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স। সড়কটির নির্মাণকাজে দুটি বক্স কালভার্টসহ চুক্তিমূল্য ধরা হয় ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৭ হাজার ২৫৪ টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৬ মে’র মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৪ মাস পরও কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটি ব্যবহারকারী কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি স্থানীয় চৌধুরী ট্রেডার্সের সালাউদ্দিন চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কাজ ফেলে রাখার অভিযোগ আগেও রয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে স্থানীয়রা বেড়া দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের সতর্ক করে রেখেছেন। সড়কটির এমন অবস্থায় অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এই সড়ক দিয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তোরাপ শেখের পাড়া, যদু ফকির পাড়া ও সোনাউল্লা ফকির পাড়াসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। কৃষিপণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন ফকির বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কয়েক গ্রামের মানুষ বাজার-হাটে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার বিভিন্ন জায়গা ভেঙে গেছে। যানবাহন চলাচল করতে পারে না, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

আফতার শেখ, কুদ্দুস বেপারীসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার পর কয়েকবার ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পাটের মৌসুম হওয়ায় সড়কটি ব্যবহার করতে না পারায় কৃষকরাও সমস্যায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “বিভিন্ন কারণে কাজটি শেষ করতে দেরি হয়েছে। কাজের এলাকায় বৃষ্টির কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া বিটুমিনসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মূল ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রি-টেন্ডার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ হলেও ঠিকাদারকে ৫০ শতাংশ বিল দেওয়া হয়েছে। ফলে রি-টেন্ডার করা হলেও এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg