স্টাফ রিপোর্টার, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকটে ডুবোচরে আটকা পড়েছে শাহ পরান নামের একটি রোরো ফেরি। মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় নানা চেষ্টা চালিয়ে ফেরিটি ডুবোচর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের অদূরে ডুবোচরে আটকে রয়েছে রোরো ফেরি শাহ পরান। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালানোর পর বেলা পৌনে ৩টার দিকে ফেরিটিকে ডুবোচর থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পরে ফেরিটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে নোঙর করে।
আটকে পড়া ফেরির যাত্রী মো. শাহিনুর রহমান, বিলকিছ আক্তার ও মো. বেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হয় শাহ পরান। দৌলতদিয়া ঘাটের কাছাকাছি আসার পর ফেরিটি নির্ধারিত নৌপথ থেকে কিছুটা সরে গিয়ে বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ডুবোচরে আটকা পড়ে।
তারা জানান, ফেরিটি দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে স্বজনদের কাছে পৌঁছাতে না পারায় অনেকেই দুর্ভোগে পড়েন।
দৌলতদিয়ার বাসিন্দা শেখ রাজীব বলেন, তাঁর বোন মানিকগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দে আসছিলেন। তাঁকে নিতে তিনি দৌলতদিয়া ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর ২টার দিকে তিনি জানান, দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। পরে জানতে পারেন, তাঁর বোন যে ফেরিতে আসছেন, সেটিই ডুবোচরে আটকা পড়েছে।
এদিকে ফেরিটি ঘাটে নোঙর করার পর এর মাস্টার ও সুকানিকে নিয়ে কিছুটা রহস্যের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা ফেরির চালকের কক্ষে গিয়ে মাস্টারের খোঁজ করলে সেখানে থাকা এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় না দিয়ে জানান, ফেরির মাস্টার একটু আগে নিচে গেছেন। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ফেরির চালকের কক্ষে আসেন মাস্টার মো. জামাল হোসেন ও সুকানি সাইদুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাস্টার মো. জামাল হোসেন বলেন, সাধারণত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা না থাকায় আমি ভুল করেছি। এ জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ফেরি ডুবোচরে আটকে পড়ার কারণ হিসেবে তিনি তীব্র স্রোতের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্রোতের কারণে ফেরিটি নির্ধারিত রুট থেকে সরে গিয়ে ডুবোচরে আটকা পড়ে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের তথ্য অনুযায়ী রোরো ফেরি শাহ পরান প্রায় ২০ মিনিট ডুবোচরে আটকা ছিল। উদ্ধারের পর ফেরিটি দিয়ে যানবাহন পারাপার শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষের দিকে প্রতিবছরই নৌরুটে ডুবোচরের সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলকারী ফেরিগুলো মাঝেমধ্যে ডুবোচরে আটকা পড়ে। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর নৌ বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফেরির মাস্টারদের সতর্কতার সঙ্গে ফেরি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।