স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফারুক শেখ (৪৬) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন ছোট ভাই ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বারেক শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন মো. আলমগীর হোসেন ও মো. রুবেল শেখ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি ধারালো দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দঘাট থানাধীন জামতলা এলাকায় নিজ বসতবাড়ির শয়নকক্ষে ফারুক শেখকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল তদন্তে নামে। তদন্ত ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে বারেক শেখ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহ, জীবদ্দশায় মাকে মারধরের ক্ষোভ এবং ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বারেক হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৌলতদিয়া এলাকার সহকর্মী আলমগীর ও রুবেলকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে হিসেবে নিয়োগ করেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেল বারেক শেখের বাড়িতে গেলে আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা দুটি ধারালো দা তাদের হাতে তুলে দেন বারেক। এরপর তিনি অন্যত্র চলে যান। পরে আলমগীর ও রুবেল ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে বারেক শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালন্দঘাট থানাধীন দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন মন্ডলপাড়া এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার রুবেল ও আলমগীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ যেসব আলামত উদ্ধার করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রক্তমাখা দুটি ধারালো দা, রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মাস্ক।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত গ্রেপ্তার তিন আসামিকেই স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।