শিরোনাম
রাজবাড়ীর নতুন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন নামজারি ফি ১,১৭০ টাকা, গোয়ালন্দে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলেই এসিল্যান্ডকে জানানোর আহ্বান রাজবাড়ীতে মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী সদর ইউএনও নিরুপমা রায়ের বিদায় বার্তা, পদ্মাকন্যা রাজবাড়ী হৃদয়ে থাকবে গোয়ালন্দে ওজন স্কেলে অভিযান: অতিরিক্ত ওজনের ৫ পরিবহনকে জরিমানা বিদ্যুতের খুঁটি বসানো নিয়ে বিরোধ, বাঁশের বেড়ায় ৪ পরিবার অবরুদ্ধ দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকাণ্ডের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার গোয়ালন্দে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত নতুন কমিটিতে সভাপ রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ দৌলতদিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন, অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রিজের অভাবে গোয়ালন্দের কাউলজানিতে চরম দুর্ভোগ, জীবনের ঝুঁকিতে নদী পারাপার

স্টাফ রিপোর্টার / ৫৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

0Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী):
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি এলাকায় একটি ছোট নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও বৃদ্ধসহ শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় কিংবা সাঁতরে নদী পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউলজানি এলাকায় নদীর দুই তীরে মানুষের নিয়মিত চলাচলের পথ থাকলেও মাঝখানে নেই কোনো সেতু। একসময় ব্যবহৃত বাঁশের সাঁকোর কয়েকটি খুঁটি এখনও পানিতে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটি এখন সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ফলে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা ছোট নৌকা বা সাঁতার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে নিত্যদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম শেখ বলেন, বছরের পর বছর আমরা কষ্ট করে নদী পার হচ্ছি। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে কয়েকশ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।

কৃষক হাফিজুল মোল্লা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। সেতু না থাকায় অনেক সময় বিকল্প পথ দিয়ে ঘুরে যেতে হয়, এতে সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়। তিনি বলেন, এখানে একটি ব্রিজ হলে মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রমসবই সাশ্রয় হবে।

গৃহিণী মর্জিনা আক্তার বলেন, আমাদের কৃষিজমি নদীর ওপারে। প্রায়ই সেখানে যেতে হয়। কিন্তু সব সময় নৌকা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সাঁতরে নদী পার হতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু বা সাঁকো নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আপাতত একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু অথবা অন্তত নিরাপদ অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হবে। এতে কাউলজানিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নদী পারাপারের অবসান ঘটবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg