স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে গোয়ালন্দ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শাকিল উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ছাত্তার মেম্বারপাড়া এলাকার রেজাউল শেখের ছেলে। পরিবারের দাবি, তিনি জন্ম থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন।
অভিযোগের তীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে দৌলতদিয়া ৬ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটের মাঝামাঝি আজিজুল চালাকের বাড়ির পেছনে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শাকিল অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে শয্যাশায়ী। তার মা হোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে জন্ম থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। ঘটনার দিন ৭ নম্বর ফেরিঘাটে গেলে মনির কাজী তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে এই জঘন্য কাজ করে। বাড়িতে এসে ছেলে বিষয়টি বললেও প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। পরে ঘাটে গিয়ে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারি ঘটনাটি সত্য। তখন দেখি তার লুঙ্গিতে রক্তের দাগ ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওষুধ দেন এবং মামলা করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর টিকিটের দায়িত্বে থাকা শফি আমাদের ডেকে বলেন, যা হওয়ার হয়েছে, তোমরা গরিব মানুষ, যা প্রয়োজন কিনে দেই। এরপর আমার ছেলেকে রিকশায় করে নিয়ে একটি লুঙ্গি, একটি সার্ট ও এক জোড়া স্যান্ডেল কিনে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাজী মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শাকিল মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় আমরা প্রায়ই তাকে খাবার ও বিভিন্ন জিনিস কিনে দিই। প্রায় ১৫ দিন আগে সে আমার ফোনে খারাপ ভিডিও দেখতে চাইলে এবং এ বিষয় নিয়ে দুষ্টুমি করলে আমি তার পাছায় একটা লাঠি দেই। সেই ঘটনাকে বিকৃত করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে টিকিটের দায়িত্বে থাকা শফি মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার পর মালিকপক্ষ আমার ডিউটি বন্ধ করে দিয়েছে। তারা আমাকে এক হাজার টাকা দিয়ে কিছু জিনিস কিনে দিতে বলেছিল। তবে ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হুমায়ুন রেজা জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রথমদিকে অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মামলা নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে অভিযুক্ত ও ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।