স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ীর পাংশা পৌর শহরের মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও জোরপূর্বক মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার মো. আকাশ মাহমুদ দৈনিক কালের কণ্ঠের রাজবাড়ী জেলা (মাল্টিমিডিয়া) রিপোর্টার এবং রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাতৃকণ্ঠ পত্রিকার পাংশা উপজেলা প্রতিনিধি।
এ ঘটনায় ছাত্রপ্রতিনিধি সাগর শিকদারসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ জানান, গত বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকজন ইজিবাইক চালকের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে ছাত্রপ্রতিনিধিরা মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন ইজিবাইক চালক ছাত্রপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, আমি ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় কয়েকজন আমার ওপর হামলা করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারণ করা ভিডিও ডিলিট করে দেয়। পরে আবারও আমাকে মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে সেখান থেকে সরে যেতে হয়।
আহত ছাত্রপ্রতিনিধি সাগর শিকদার অভিযোগ করে বলেন, মৈশালা-লাঙ্গলবাঁধ সড়কে ইজিবাইক চালকদের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করছে। গত বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের দুর্ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গেলে ইজিবাইক চালকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আহত সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।