লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামসুল হক সরকারি গাড়ি নিয়ে গত ৬ দিন ধরে ঢাকায় রয়েছেন। তিন দিনের ছুটি নিয়ে ছয় দিনেও কর্মস্থলে নেই তিনি। কোভিড পরিস্থিতিতে নিজ কর্মস্থল ত্যাগ না করতে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও চাকুরি বিধি না মেনে সরকারি জীপ গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে নিয়ে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জুড়ে নানা সমালোচনার তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ডাঃ মোহাম্মদ শামসুল হক (পরিচিতি নম্বর ১৩২৯৭৬) গত ১ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিশাখার উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত সিনিয়র স্কেলে পদোন্নতি পান। এরপর গত ৮ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পাটগ্রাম হাসপাতালে যোগদান করেন তিনি। যার স্মারক নম্বর ৪৫.১৪৩.০৮০.০৭.০০.০০১.২০২০-১৪১। গত ১০ এপ্রিল হাসপাতালের হলরুমে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেনের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিনই সরকারি ও হাসপাতালের কাজে ব্যবহারে তার জন্য বরাদ্দ টয়েটা র্যাব ফোর (প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যের) গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাড়ীর চালক রুবেল হোসেন বলেন, ‘যেখানে যেতে বলবে আমি সেখানেই যেতে বাধ্য। গত ১০ এপ্রিল আমরা ঢাকায় আসি। নিয়ম-নীতি সম্পর্কে স্যারের সাথে কথা বলুন।’ পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা ডাঃ আফসানা আফরোজ বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল তিন দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন ডাঃ শামসুল হক স্যার। তিনি করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে আসার কথা।’ লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মুলেন্দু রায় বলেন, ‘পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গত ১০ এপ্রিল তিন দিনের ছুটি নিয়ে নিজ বাসা ঢাকায় গেছেন। লালমনিরহাট জেলার বাইরে সরকারি গাড়ী নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাকে কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি তিনি বিধি বহির্ভূত কাজ করেন তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়া হবে।