স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর পাংশায় পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে কাতারপ্রবাসী আবদুর রহিম মোল্লাকে (৩০) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন মিয়া (৩৬) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাদ্দাম হোসেন মিয়া পাংশা পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে। নিহত আবদুর রহিম পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মান্নান মোল্লার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আবদুর রহিম কাতারপ্রবাসী ছিলেন। তাঁর ভাই আবদুর রহমানকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাদ্দাম হোসেন মিয়াসহ চারজন তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর পাংশা সরকারি কলেজ এলাকার চাচার ক্যান্টিনে তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়।
সেদিন বিকেল ৫টার দিকে রহিম ক্যান্টিনের সামনে পৌঁছালে তাঁকে ছুরি দিয়ে পেট ও ঊরুতে আঘাত করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ভোর ৫টার দিকে আবদুর রহিমের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
রায়ের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম আশা বলেন, আদালত রায়ে ন্যায়বিচার করেছেন। একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তাঁরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক (২) বলেন, প্রবাসী আবদুর রহিমকে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাদ্দাম হোসেন মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপর তিন আসামি পলাশ মন্ডল, রাশেদ মন্ডল ও শরীফ মুন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।