স্টাফ রিপোর্টার: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা আরও একটি মামলায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলীকে শ্যোন অ্যারেস্ট গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় তাকে রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলায় শুনানির জন্য তাকে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০২৭ সালের ১৮ জানুয়ারি ধার্য করেন।
এ ছাড়া গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা আরও একটি মামলায় গোয়ালন্দ আমলী আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইনের আদালতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা জানান, এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে প্রথমে গ্রেপ্তার হওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান। পরবর্তী সময়ে তাকে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলে সেখানেও তিনি জামিন লাভ করেন। এরপর আবারও তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইনজীবী আরও জানান, গত ১৫ অক্টোবর একটি মামলায় নিয়মিত হাজিরার দিন ধার্য ছিল। তবে এর আগের দিন ১৪ অক্টোবর পুলিশের পক্ষ থেকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। পরদিন আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকে সাবেক এই শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা আরও জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে উৎস সরকার বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বুধবার ওই মামলাতেই কাজী কেরামত আলীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান।