জহুরুল ইসলাম হালিমঃ
“স্টিলের হাতলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটছে ছোট্ট ঈশিতা” শিরোনামে গত ৮ মার্চ রাজবাড়ী টেলিগ্রাফে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের পর সর্বত্র ব্যাপক সারা পরে। তার সাহায্যে এগিয়ে আসে ব্র্যাকের ব্র্যাক লিম্ব এবং ব্রেস সেন্টার নামের একটি কৃত্রিম পা সংযোজন প্রতিষ্ঠান। তারা ঈশিতাকে ঢাকায় নিয়ে গত ৫ এপ্রিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঈশিতাকে একটি কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেয়। বর্তমানে তাকে কৃত্রিম পায়ে হাঁটতে অভ্যাস করার জন্য ১০ দিনের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।
ঈশিতার পারিবারিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
এদিকে নতুন পায়ে ভর দিয়ে ঈশিতা এখন জীবনকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে, আবারো সে স্কুলে যাবে। লেখাপড়া করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে। পরিবারের বোঝা হয়ে থাকার যে দুঃচিন্তা তাকে গ্রাস করেছিল এখন তা সে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নুরু মণ্ডল পাড়ার রিকশাচালক মো. ঈমান শেখের মেয়ে ঈশিতা। দুই বছর আগে তার পায়ে একটি টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু আর্থিক টানাপোড়নে চিকিৎসা করাতে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে তার পা কেটে ফেলতে হয়। সেখান থেকেই তার দুর্বিষহ জীবনের শুরু। বন্ধ হয়ে যায় পড়ালেখা। সে স্থানীয় বড় সিংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো।
এ প্রসঙ্গে ঈশিতার বাবা মো. ঈমান শেখ বলেন, আমার মেয়ে এক দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমার মেয়ে ও আমরা আজ অনেক খুশি। আমার মেয়েকে যারা কৃত্রিম পা লাগিয়ে দিলেন তাদের প্রতি এবং সাংবাদিকদের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা অতগুলো টাকা খরচ করে কখনোই এই কৃত্রিম পা লাগাতে পারতাম না।