স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় মরা পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এতে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ড্রেজার চালানোর ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ কাজে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সরেজমিনে ফকিরপাড়া এলাকায় গিয়ে মরা পদ্মা নদীতে একটি ড্রেজার চালু অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ড্রেজারটি পরিচালনা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেউ এ কাজে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানোসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, রাতে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকলেও ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে মেশিন চালানোর কারণে শিশু ও বয়স্কদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে আশপাশের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।
এ পরিস্থিতিতে নদী ও বসতভিটা রক্ষায় অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে হাবিবুর রহমান বলেন, তিন দিন ধরে বালু কাটছি। একজন গরিব মানুষ বাড়ি করবেন, তাই তাঁর গর্তটি ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেই।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে ড্রেজার চালানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমি শুনেছি। অবৈধভাবে কোনোভাবেই বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা জানান, উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে কেউ ড্রেজার পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।