শিরোনাম
রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, ৫ লাখ টাকা জরিমানা রাজবাড়ীতে নৌকা বাইচের ফাইনালে সংঘর্ষ, ডুবে গেল ৮০ মাঝি-মাল্লাবাহী নৌকা গোয়ালন্দে লোটাস কলেজিয়েট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ রাজবাড়ীতে দুই দিনব্যাপী বাংলা উৎসবের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পাংশায় আমবাগান থেকে ৪২টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার রাজবাড়ীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর কলেজছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার গোয়ালন্দে মা ইলিশ রক্ষায় যৌথ অভিযান, ৫৫০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ গোয়ালন্দে আইএফআইসি ব্যাংকের অবিচল বিশ্বাসে ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন পাংশায় প্রবাসীর মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ, লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, ৫ লাখ টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার / ২২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে বিয়ে ও সন্তানকে অস্বীকার করার মামলায় মো. ফারুক হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে।

মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তালাকপ্রাপ্ত এবং তার বাড়ির পাশেই ফারুক হোসেনের বাড়ি। একপর্যায়ে ফারুক তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে তার বাড়ি থেকে কুষ্টিয়ার খোকসা রেলস্টেশন এলাকার নিজের এক নিকটাত্মীয় বাবলু খোন্দকারের বাসায় নিয়ে যান ফারুক। সেখানে রাত ৮টার দিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ করে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই বাসায় প্রায় দুই মাস অবস্থানকালে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফারুক একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে বিয়ের কাগজপত্র তৈরির কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং তিনটি স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর নেন। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ফারুক বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তার ওপর নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কৌশলে সেখান থেকে চলে আসেন ওই নারী। পাংশা থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করায় তিনি রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় এজাহার গ্রহণ করা হয়। ওই নারীর একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। মামলার আসামি ফারুক হোসেন জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত করেন পাংশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন। তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ও ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারার অপরাধ আসামির বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একই আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg