শিরোনাম
গোয়ালন্দে ইউসিবি ব্যাংকের নতুন এজেন্ট শাখার উদ্বোধন গোয়ালন্দে ভেজা বালি পরিবহন, ছয় ড্রাম ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কালুখালীতে রেড ক্রিসেন্টের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাজবাড়ীতে বিভিন্ন মামলার ৭ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, ৫৫ বছরের সাইফুল গ্রেপ্তার বালিয়াকান্দিতে মেয়েকে ধর্ষ/ণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন গোয়ালন্দে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গোয়ালন্দে ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পালানোর সময় মোটরসাইকেল-মোবাইল ফেলে গেলেন অভিযুক্তরা। কালুখালীতে কৃষক হত্যা: দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন গোয়ালন্দে সরকারি স্থাপনা আবাসন হিসেবে ব্যবহার, প্রশ্নের মুখে পৌরসভার তিন কর্মকর্তা

বালিয়াকান্দিতে মেয়েকে ধর্ষ/ণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার / ৪১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

0Shares

৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড; রায়ের সময় আদালতে ছিলেন না আসামি

স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে শহিদুল ইসলাম (পাষণ্ড পিতা) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাকালিয়া গ্রামের মৃত মকছেদ ফকিরের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে তার শয়নকক্ষে মেয়ের সঙ্গে স্বামীকে ধস্তাধস্তি করতে দেখেন। এ সময় তিনি স্বামীকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদুল ইসলাম স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

পরে মেয়ের কাছ থেকে তার মা জানতে পারেন, শহিদুল ইসলাম প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন। এ ছাড়া ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে শহিদুল ইসলাম মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।

মামলার পর ভুক্তভোগী আদালতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কায়ছুন্নাহার সুরমার কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন। পরে তার মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়।

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন বালিয়াকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন। পরে তার বদলির পর এসআই আসাদুজ্জামান রিপন মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে তিনি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচারকাজ চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত মৌখিক, পারিপার্শ্বিক, অবস্থাগত ও মেডিকেল সাক্ষ্য পর্যালোচনায় আসামি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তিনি সাজা পাওয়ার অধিকারী।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, ধর্ষণ এমন একটি অপরাধ, যা ভুক্তভোগীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি তার পারিবারিক, সামাজিক ও মানবিক মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। এ মামলায় ভুক্তভোগী নিজ বাড়িতে তার বাবার কাছেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যা স্বাভাবিক মানবিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক ঘটনা।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হবেন, সেখান থেকেও তা আদায়যোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাধিকার পাবে।

পিপি জানান, একই আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী কালেক্টর, রাজবাড়ীকে আসামি শহিদুল ইসলামের স্থাবর-অস্থাবর বা উভয় ধরনের সম্পদ নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg