স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (২১) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে জেলার দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের মো. দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), একই গ্রামের মো. গনি সরদারের ছেলে মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং সমেশপুর গ্রামের মো. সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)। তাঁরা সবাই রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
এরপর গত ৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী (৫৪) বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে বস্তাবন্দী করা হয়। এরপর বালুভর্তি বস্তা বেঁধে আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা কালো টি-শার্ট। এ ছাড়া দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে নিহত রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।