স্টাফ রিপোর্টার:রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় কৃষক নজরুল ইসলাম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। হত্যাকাণ্ডের নয় দিন পার হলেও সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। আগামী তিন দিনের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নিহত নজরুল ইসলাম খানের বড় মেয়ে রহিতা আক্তার, ছোট মেয়ে রুনা খাতুনসহ শামিম ওসমান, মেহেদী হাসান মাহফুজ, শাহরিয়ার রিয়াদ, তুরান হাসান, রিয়াদ মাহমুদ এবং নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৃষক নজরুল ইসলাম খানকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা। আগামী তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
নিহত নজরুল ইসলাম খানের ছোট মেয়ে রুনা খাতুনের অভিযোগ, তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর বাবাকে বাড়ির সামনে ডেকে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর বাবার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার ঘটনায় নজরুল ইসলাম খানের স্ত্রী জহুরা বেগম ও মেয়ে রুনা খাতুনও আহত হন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন কৃষক নজরুল ইসলাম খান। এ ঘটনায় তাঁর ছোট মেয়ে রুনা খাতুন বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. তুহিন সরদার ও গোলাপী বেগমকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গোলাপী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত কৃষকের পরিবারের দাবি, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সব আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।