স্টাফ রিপোর্টার,
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় মাস আগে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত যুবক জাহাঙ্গীর মল্লিক (৩৭) বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না করা এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় গোয়ালন্দের শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে অসহায় জাহাঙ্গীর মল্লিকের পরিবার বর্গের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আছমা খাতুন বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে গত ২৬ এপ্রিল মানিক মোল্লা ও আলম মণ্ডলের নেতৃত্বে একাধিক লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা জাহাঙ্গীরকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে দ্রুত প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও তেমন উন্নতি হয়নি। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কথা বলতে পারছেন না, এমনকি কাউকে চিনতেও পারছেন না। অর্থের অভাবে বাড়িতেই মানবেতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
আছমা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, হামলার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হলেও এর মধ্যে ৭ জন ইতোমধ্যে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি মো. মানিক মোল্লা (৩০) ও মো. আলম মণ্ডল (৪৫) প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। পাশাপাশি আসামিরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় মামলার প্রধান আসামিসহ সকল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহত জাহাঙ্গীর মল্লিক তার স্ত্রী আছমা খাতুন, তার মা মহিরন বেগম, বোন রাহিমা খাতুন, বড় ভাই ও মামলার বাদী মকিম মল্লিক ।
এ বিষয়ে জানতে মামলার ১নম্বর আসামি মানিক মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “মামলার ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে ৭ জন আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। দুইজন আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”