নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের দাবি, কার্ড প্রদানের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গোয়ালন্দের চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১২ জন ডিলারের মাধ্যমে ৬ হাজার ৮৭৮টি পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় চাল পাচ্ছেন। তবে দরিদ্র মানুষের জন্য চালু হওয়া এই কর্মসূচি এখন কিছু ডিলারের অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। হিসাব অনুযায়ী, এভাবে প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। উজানচর ইউনিয়নের পুরনো জামতলা ও গোয়ালন্দ রেলগেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কার্ডধারীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে পুরোনো কার্ড জমা রেখে নতুন কার্ড দেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ অভিযোগ করতে চাননি, তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, তাদের কাছ থেকে প্রকৃতপক্ষে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। তারা বলেন, ডিলাররা বলছে অফিস থেকেই টাকা নেওয়ার নির্দেশ আছে। টাকা না দিলে গড়িমসি করা হয়। প্রভাবশালী ডিলারদের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। পুরাতন জামতলার ডিলার ফরিদুল জানান, আজ প্রায় ২৫০ জনকে চাল দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ কার্ড বাবদ ৫০ টাকা চাওয়া হলেও সবাই দেয়নি, তবুও কার্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রেলগেট এলাকার ডিলার রনি দাবি করেন, অনেকেই একাধিকবার চাল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য নতুন অনলাইন কার্ড তৈরি করা হয়েছে, যার খরচ বাবদ ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অফিস থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া গোয়ালন্দ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিয়াজ মাহমুদ বলেন, কার্ড প্রদানের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান জানান, কার্ডের জন্য টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি প্রথমবার শুনলাম। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।