স্টাফ রিপোর্টার,
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পাট চাষকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমির বিনিময়ে দপ্তরির চাকরির আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভে নিজেদের জমিতে পাটের আবাদ করেছেন জমির মালিক। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার মুরারীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় মাঠের চারপাশ সমান করতে স্থানীয় বাসিন্দা কালাম খানের প্রায় ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে ১৩ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। ওই জমির একটি অংশের ওপর বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
জমির মালিকপক্ষের দাবি, জমির বিনিময়ে তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা নিজেদের জমিতে পাটের চাষ করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঠের মাঝখানে পাটক্ষেত থাকায় খেলাধুলা করতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্ক নিয়েও মাঠে যেতে চায় না। দ্রুত মাঠ থেকে পাটক্ষেত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
জমির মালিক কালাম খান বলেন, জমির বদলে আমার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই বছরেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাই আমরা নিজেদের জমিতে চাষ করেছি।
কালাম খানের ভাই রুহুল আমিন খান বলেন, আমাদের প্রায় ১৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। জমি নেওয়ার সময় চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুন্নাহার খানম বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানা সোজা করার জন্য সাবেক সংসদ সদস্যের উদ্যোগে জমিটি নেওয়া হয়েছিল। জমির মালিকপক্ষের জন্য একটি ব্যবস্থা করার কথাও ছিল। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বিষয়টি আর এগোয়নি। পরে জমির মালিকরা সেখানে পাটের আবাদ করেন।
এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় আসে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে জমি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।জমির মালিক প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর জমির মালিক জমিটি পুনরায় নিজের দখলে নিয়ে সেখানে চাষাবাদ শুরু করেন। মূলত বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় নয়, ব্যক্তিগত জমির ওপরই সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমরা কাজ করছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।