সাময়িক বহিষ্কার, বন্ধ বেতন
স্টাফ রিপোর্টার,রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীর বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বেতন বন্ধ রেখে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত মোঃ নাসির শেখ উপজেলার নবুওছিমদ্দিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দপ্তরী ও এক প্রবাসীর স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রমজান মাতুব্বার পাড়া এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে নাসির শেখের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই দম্পতির দুই সন্তান অভিযুক্তের কর্মস্থল বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করায় উপবৃত্তির টাকা সংক্রান্ত যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের পরিচয় হয়।পরে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এ সময় কৌশলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ভিডিওগুলো সংশ্লিষ্ট নারীর প্রবাসী স্বামীসহ কয়েকজনের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পরিবারটি ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযুক্ত নাসির শেখ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ঘটনার সবকিছু সত্য নয়। আমরা দু-এক জায়গায় ঘুরতে গেছি, তবে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক হয়নি। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়েছে। এরপরও কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
নবুওছিমদ্দিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আঃ হালিম প্রামাণিক বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনায় নাসির শেখের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব সাময়িকভাবে বুঝে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে বিরত আছেন এবং তার বেতনও বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। পরে দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।