গোয়ালন্দ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে জরিমানার আশঙ্কা, ক্ষোভ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের
স্টাফ রিপোর্টার,
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আবারও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ে বাস ও অন্যান্য পরিবহন থেকে কথিত ‘ডিপার্চার চার্জ’ আদায়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ঈদের মতো এবারও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন পরিবহন থেকে টাকা আদায় করা হতে পারে এমন আশঙ্কায় পরিবহন চালক, মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গত ঈদযাত্রার সময় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে পুনরায় চেকিংয়ের মুখে পড়তে হতো। এ সময় ‘টার্মিনাল চার্জ’ বা ‘ডিপার্চার টোকেন’ দেখাতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে বাস, মিনিবাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের কাছ থেকে ‘ডিপার্চার’ বা ‘টার্মিনাল চার্জ’ নামে টাকা নেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটকে রাখা, কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে হয়রানি এবং জরিমানার হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
একাধিক চালক জানান, অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি কোনো রসিদ ছাড়াই টাকা নেওয়া হয়েছে। ঈদের ব্যস্ত সময়ে ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়েছে বলে দাবি তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন, গোয়ালন্দ মোড় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। এখানে চেকপোস্ট বসিয়ে চাঁদাবাজির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, একই সঙ্গে যাত্রীদেরও ভোগান্তি বাড়ে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির ১৭২৭ নম্বর সদস্য ও শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জুয়েল বলেন, গত ঈদে আমি মাইক্রোস্ট্যান্ডের দায়িত্বে ছিলাম। প্রতি গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এবার তেলের দামসহ সব কিছুর দাম বেড়েছে, তাই কী হবে এখনো জানি না। গতবার ৯৫টি গাড়ি থেকে মোট ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ হয়েছিল। তিন দিন দায়িত্ব পালন করে আমি ভাগে ৫০০ টাকা পেয়েছি। এ কারণে এবার দায়িত্ব নেব না। তবে প্রশাসনের নির্ধারিত টাকার বাইরে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
তিনি দাবি করেন, নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। মহাসড়কে কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি, হয়রানি বা অননুমোদিত চেকপোস্ট যেন বসানো না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন,ঈদুল ফিতরের মতো এবারও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকবে। জনভোগান্তি বা পরিবহন বিশৃঙ্খলার কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।