স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ আমরা করব। কিন্তু পদ্মা সেতুও আমাদের দরকার। আপনারাই বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু দরকার না? এ সময় উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ বলে সাড়া দেন। পরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
গোয়ালন্দের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে সম্পৃক্ত করা হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলার বেহাল সড়ক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু গোয়ালন্দ নয়, সারা বাংলাদেশের রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। শুধু রাস্তাঘাট নয়, প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই নানা সমস্যা পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। অর্থের সংস্থান, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন সবকিছুতেই সময় লাগে। তবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চলতি অর্থবছরেই গোয়ালন্দের অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এনসিপি বা অন্য কোনো কিছু না। আমরা বাংলাদেশের সুষ্ঠু, সুস্থ এবং সাবলীল সংস্কৃতি দেখতে চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানও সেটিই। সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ খাতের অধঃপতন হয়েছে। এর প্রভাব যুবসমাজের ওপরও পড়েছে। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ যুবসমাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
এর আগে সকালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে গোয়ালন্দে পৌঁছান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এদিকে, উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে প্রবেশের সময় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার জন্য বিছানো লালগালিচা ব্যবহার না করে পাশের পথ দিয়ে হেঁটে যান প্রতিমন্ত্রী। তার এ ব্যতিক্রমী আচরণ উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি।