স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় তারা খাতুন (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকাসক্ত ছেলে রাজু বিশ্বাসের (২৮) বিরুদ্ধে মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের সুবর্ণখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তারা খাতুন ওই এলাকার জাবেদ বিশ্বাসের স্ত্রী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সুবর্ণখোলা এলাকার নাদুরিয়া ঘাট থেকে তারা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পাংশা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাজু বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জাবেদ বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, রাজু দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করতেন। এতে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছেলের চিকিৎসার জন্য তারা খাতুন মোটরসাইকেলে করে কুষ্টিয়ার বনগ্রাম এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাজু তার মাকে সঙ্গে না নিয়েই একপর্যায়ে খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরদিন সকালে তারা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিহত তারা খাতুনের সঙ্গে তার স্বামী জাবেদ বিশ্বাসের সম্পর্কও ভালো ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে রাজু বিশ্বাসের মাদকাসক্তির বিষয়টি জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তারা খাতুনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলেও রাজু বিষয়টি কাউকে জানাননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাঈনুল ইসলাম বলেন, নাদুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে তারা খাতুন নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়ে থাকলেও বিষয়টি পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর তারা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।