রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার পানি শোধনাগারের অফিসকক্ষকে আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা শোধনাগারের পৃথক কক্ষে বসবাস করছেন এবং বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ, এসি ও ফ্যানসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছেন।
অথচ তাঁদের কেউই পানি শোধনাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন। পাশাপাশি সরকারি বাসাভাড়া ভাতা উত্তোলনের বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি সম্পদের ব্যবহার ও আর্থিক জবাবদিহি নিয়ে।
সরেজমিনে গোয়ালন্দ পৌরসভার পানি শোধনাগারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার পৃথক কক্ষে বসবাস করছেন পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম, আইইউজিআইপি প্রকল্পের মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার দীপক কুমার এবং কনজারভেন্সি কর্মকর্তা নুর আলম। তাঁদের প্রত্যেকেই আলাদা কক্ষ ব্যবহার করছেন। এসব কক্ষে এসি, ফ্যান ও লাইটের ব্যবস্থাও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষ ব্যবহারের জন্য তাঁরা নিয়মিত কোনো ভাড়া পরিশোধ করছেন না। ফলে সরকারি স্থাপনা ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ খরচের দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ও আর্থিক ক্ষতির নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, আমাকে এখানে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছিল। সে কারণে তৎকালীন কর্মকর্তাকে জানিয়েই আমি এখানে উঠেছিলাম। একটা ভাড়া নির্ধারণ করার কথা ছিল, কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তা আর হয়ে ওঠেনি।
সরকারি কর্মচারীদের বাসস্থান বরাদ্দ ও বাড়িভাড়া ভাতা-সংক্রান্ত বিধানে কর্মস্থলে বা কর্মস্থলের কাছাকাছি মেস, হোস্টেল, রেস্ট হাউস, ডরমিটরি কিংবা ডাকবাংলোয় একক আসন বা কক্ষ বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
এ ধরনের বরাদ্দকে নির্দিষ্ট শর্তে সরকারি বাসস্থান বরাদ্দ হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন। তবে বরাদ্দ করা আসন বা কক্ষের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ভাড়া ও অন্যান্য আর্থিক দায় পরিশোধের বিধানও রয়েছে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলায়েত হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। আমি পরে এখানে বদলি হয়ে এসেছি। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন। কে, কীভাবে তাঁদের থাকতে দিয়েছেন, সেটি তিনিই জানেন। তবে ভাড়া ছাড়া এভাবে থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা ভালো হয়নি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, তাঁদের নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে তাঁরা স্থান পরিবর্তন করবেন, অথবা ভাড়া দিয়ে সেখানে থাকবেন। আমাদের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম পানি শোধনাগারে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে দেখে আরও দুজন সেখানে থাকা শুরু করেন। এখন সবাইকে নিষেধ করা হয়েছে।
সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমোদন, নির্ধারিত ভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ওই তিন কর্মকর্তা সরকারি বাসাভাড়া ভাতা উত্তোলন করে থাকলে, তাঁদের আবাসনের ধরন ও বরাদ্দসংক্রান্ত বিধির সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।