শিরোনাম
গোয়ালন্দে সার্বিক ফলাফলের হতাশার মাঝে ৫ শিক্ষার্থীর গোল্ডেন জিপিএ-৫ গোয়ালন্দে যুব দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা বালিয়াকান্দিতে টেবিল ফ্যানের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু রাত ৮টার মধ্যে শপিং মল-মার্কেট ও দোকান বন্ধের নির্দেশ পাংশা মডেল থানা বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ গোয়ালন্দে ৫ শিক্ষকেই চলছে ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান গোয়ালন্দে এসএসসিতে পাসের হার ৫৪.৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন মানবিক ওসি উত্তম কুমার ঘোষের সহযোগিতায় পরিবারের কাছে ফিরলেন নীলফামারীর জোবেদা গোয়ালন্দে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ২ ঘণ্টায় আসামি গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে হাইব্রিড সোলারচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজের উদ্বোধন

গোয়ালন্দে সার্বিক ফলাফলের হতাশার মাঝে ৫ শিক্ষার্থীর গোল্ডেন জিপিএ-৫

স্টাফ রিপোর্টার / ৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার; রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সার্বিকভাবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল কিছুটা হতাশাজনক হলেও সাফল্যের আলো ছড়িয়েছেন পাঁচ কৃতি শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে পরিবার, শিক্ষক ও গোটা এলাকার জন্য গর্ব বয়ে এনেছেন তারা।

গোয়ালন্দের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচজন শিক্ষার্থী গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দুইজন, দেওয়ানপাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের দুইজন এবং লোটাস কলেজিয়েট স্কুলের একজন। তাদের এই সাফল্যে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইছে আনন্দের আবহ।

গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথৈই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার বাবা আজাদ বেপারী ব্যবসা করেন এবং মা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন অথৈই। তিনি বলেন, আমি গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান ভালো বুঝি। তাই ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।

ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করতে হবে। কত ঘণ্টা পড়াশোনা করলাম, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা। পড়া জমিয়ে রাখলে পরে সমস্যা তৈরি হয়।

আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং কোনো দিনের পড়া পরের দিনের জন্য ফেলে রাখা যাবে না।

একই বিদ্যালয়ের আরেক কৃতি শিক্ষার্থী সানজিনা ইসলাম। তার বাবা রফিকুল ইসলাম সালু প্রবাসে থাকেন। বছরের শুরু থেকেই ভালো ফলাফলের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সানজিনা।
তিনি বলেন, বছরের শুরু থেকেই আমি ভালো ফলাফলের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। নবম শ্রেণি পর্যন্ত আমাদের নির্দিষ্ট গ্রুপ ছিল না। দশম শ্রেণিতে উঠে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ ভাগ হলে আমি বিজ্ঞান বিভাগ বেছে নিই।

ভালো ফলাফলের জন্য মাইন্ডসেটের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনাকে গুরুত্ব দেন সানজিনা। তার ভাষায়, একদিনের কাজ আরেকদিনের জন্য ফেলে রাখলে হবে না। নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। কত ঘণ্টা পড়লাম, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং বুঝে পড়া এবং নিয়মিত পড়াশোনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে কী করবেন এ বিষয়ে নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।

গোয়ালন্দ লোটাস কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী সোহাগ মোল্লা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লার পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা আবুল কালাম আজাদ মোল্লা প্রবাসে থাকেন। মায়ের তত্ত্বাবধানেই পড়াশোনা চালিয়ে এসেছেন সোহাগ।

পড়াশোনায় মনোযোগ ও নিয়মিত অধ্যয়নকে সাফল্যের মূলমন্ত্র মনে করেন তিনি। সোহাগ বলেন, পড়াশোনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মনোযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত পড়াশোনা করা।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি পড়াশোনায়ও ভীষণ মনোযোগী সোহাগ। তার মা ছেলের পড়াশোনার ব্যাপারে যথেষ্ট যত্নশীল এবং অযথা সময় নষ্ট করতে দেন না।

ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখেন এই কৃতি শিক্ষার্থী। নতুন পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং পড়াশোনার সময় মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।

দেওয়ানপাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী সাবা তাবাসসুমও পেয়েছেন গোল্ডেন জিপিএ-৫। নিয়ম মেনে পড়াশোনা করা ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

সাবা জানান, স্কুলে সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় কাটানোর পর বাসায় ফিরে খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম ও খেলাধুলা শেষে সন্ধ্যায় পড়তে বসতেন। একটানা রাত ১০টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। এরপর নামাজ ও খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তেন। ফজরের আজানের সময় ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করাও ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস।
ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারলে বাবা আবু সাইদ রাজু তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করতেন।

সাবার স্বপ্ন ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা।
পাঁচ মাস পড়াশোনার বাইরে থেকেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ কাব্যের

দেওয়ানপাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের আরেক কৃতি শিক্ষার্থী মাহফুজ হাসান কাব্য। তার বাবা মোস্তফা কামাল ফরিদপুরের ময়জদ্দিন হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং মা গৃহিণী।

কাব্যের সাফল্যের গল্পটি অন্যদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। নবম শ্রেণিতে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে প্রায় পাঁচ মাস পড়াশোনার বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। পরে বিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্যও হন। তবে হাল ছাড়েননি তিনি।

প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় ৩.৭৫ এবং টেস্ট পরীক্ষায় ৪.০৫ পাওয়ার পর তার আত্মবিশ্বাস ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এরপর শেষ তিন-চার মাস গভীর মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পড়াশোনায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেন। শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে পড়াশোনা শেষ করার প্রবল আগ্রহ এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমই তাকে এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। কাব্য বলেন, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়া।

সাফল্যের পেছনে নিয়মিত পড়াশোনা ও মনোযোগ
গোয়ালন্দের এই পাঁচ কৃতি শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্পে ভিন্নতা থাকলেও একটি জায়গায় তাদের মিল রয়েছে নিয়মিত পড়াশোনা, মনোযোগ, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলা।

সার্বিক ফলাফলে হতাশার মধ্যেও তাদের গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন গোয়ালন্দের শিক্ষাঙ্গনে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী মনে করছেন, এই পাঁচ শিক্ষার্থীর সাফল্য আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg