শিরোনাম
পাংশা মডেল থানা বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ গোয়ালন্দে ৫ শিক্ষকেই চলছে ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান গোয়ালন্দে এসএসসিতে পাসের হার ৫৪.৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন মানবিক ওসি উত্তম কুমার ঘোষের সহযোগিতায় পরিবারের কাছে ফিরলেন নীলফামারীর জোবেদা গোয়ালন্দে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ২ ঘণ্টায় আসামি গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে হাইব্রিড সোলারচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজের উদ্বোধন গোয়ালন্দে পাওনা টাকা দিতে বিলম্ব, বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল হীরার গোয়ালন্দে সরকারি অনুষ্ঠানে লালগালিচা এড়িয়ে অডিটরিয়ামে গেলেন প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম গোয়ালন্দে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবি, বললেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ীতে মন্ত্রীর নির্দেশে ১২ চিকিৎসক পদায়ন, এক মাসেই বদলি ৫ জন

গোয়ালন্দে ৫ শিক্ষকেই চলছে ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

0Shares

প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক নেই, কর্মচারীর কাজও করতে হচ্ছে শিক্ষকদের

স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে একজন বিএড কোর্সে থাকায় বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষককেই সামলাতে হচ্ছে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। ফলে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, বিদ্যালয়টিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে ঝাড়ু দেওয়া, টেবিল-চেয়ার পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজও করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এমনকি বিদ্যালয়ে কোনো নাইটগার্ড না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

১৯৩০ সালে জুনিয়র স্কুল হিসেবে গোয়ালন্দে প্রতিষ্ঠিত হয় নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। পরে ১৯৪৩ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়টি গোয়ালন্দসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিয়ে আসছে। এ বিদ্যালয়ের অসংখ্য সাবেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি বিদ্যালয়টির একজন সাবেক শিক্ষার্থী সম্প্রতি ঢাকা অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক পদ থেকেও অবসর নিয়েছেন। তবে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট যেন কাটছেই না।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। শিক্ষক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির তিনটি এবং চতুর্থ শ্রেণির চারটি পদসহ মোট সাতটি কর্মচারী পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

একসময় বিদ্যালয়ে একজন নাইটগার্ড থাকলেও কিছুদিন আগে তাকে ইনস্ট্যান্ট রিলিজের মাধ্যমে মধুখালী মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে বিদ্যালয়ে কোনো নাইটগার্ড নেই। ফলে রাতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়ভিত্তিকভাবে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করতে কমপক্ষে সাতজন শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক ও একজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অফিসের প্রশাসনিক ও শ্রেণি কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সময় এই বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের অন্যতম ভালো ফলাফল করা প্রতিষ্ঠান ছিল। নিয়মিত ক্লাস হতো। সেই ঐতিহ্যের কথা চিন্তা করেই ছেলেকে এখানে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখন শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট শিক্ষকের ওপর নির্ভর করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এতে সন্তানের ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

আরেক অভিভাবক তাহেরা খাতুন, যিনি নিজেও এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখতে পারে, যা পরীক্ষার সময় কাজে লাগে। কিন্তু প্রাইভেট পড়ার মাধ্যমে সবকিছু শেখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ভেঙে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে চায় না। আবার গেলেও শ্রেণি কার্যক্রম না চলার কারণে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত শিক্ষক ও কর্মচারীর শূন্য পদ পূরণ করে বিদ্যালয়টির পুরোনো ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে আমি সহ মোট ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে একজন বিএড কোর্সে থাকায় বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। আমাকে অফিসের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হয়। বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাসসহ সব বিষয় ঠিকভাবে পরিচালনা করতে কমপক্ষে সাতজন শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু পাঁচজন শিক্ষক দিয়েই সবকিছু সামলাতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে ঝাড়ুদার, আয়া ও অন্যান্য কর্মচারী না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজও নিজেদের করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় রাতে। নাইটগার্ড না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময়ই শঙ্কায় থাকতে হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি এর আগেও শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ইদ্রিস আলী বলেন, শিক্ষক বা কর্মচারী দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। বিষয়টি জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারীর শূন্য পদ পূরণ করে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে একজন নাইটগার্ড নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg