স্টাফ রিপোর্টারঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন রাজবাড়ী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মাহমুদুল হাসান জুয়েল। তার বক্তব্যকে প্রশাসনের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছেন উপস্থিত অনেকে।
সভায় তিনি বলেন,আমাদের পরিবহন সেক্টরের কেউ যদি কোনো ভুল বা অনিয়ম করে, আমাদেরকে বলবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রশাসন যদি সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এটা কারোর জন্যই ভালো হবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে ‘ডিপারসার’ বাবদ যে অর্থ নেওয়া হয়, তা শ্রমিকদের কল্যাণ, সামাজিক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সহযোগিতায় ব্যয় করা হয়। তার ভাষ্য, এই টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নয়, বাস মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় এবং এ নিয়ে মালিকদের কোনো অভিযোগ নেই।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশেও কড়া মন্তব্য করে বলেন,
কোনো সাংবাদিক ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সভায় রাজবাড়ী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মোল্লাও অভিযোগ করেন, দৌলতদিয়া ঘাটে শতাধিক সাংবাদিক ভুল তথ্য দিয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি দাবি করেন।
তবে শ্রমিক নেতাদের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা। গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি ঈদেই ডিপারসারের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অথচ কেউ কেউ সেটার পক্ষ নিচ্ছেন। ঈদে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত অধিকাংশ বাসেরই ফিটনেস থাকে না।
তিনি আরও বলেন, গত ঈদে বাসডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ বাসকে দায়ী করা হয়েছিল, যেখানে ২৬ জন যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। পাশাপাশি কোন সাংবাদিক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণও দাবি করেন তিনি।
সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ বলেন, ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকে কেন্দ্র করে নানা কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কথিত ডিপারসার বাবদ প্রতিটি যানবাহন থেকে অন্তত ৭০০ টাকা, অনেক ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকাও আদায় করা হয়। তিনি এই প্রথা বন্ধের দাবি জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ প্রতিনিধি, লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।