স্টাফ রিপোর্টার”রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসক না থাকায় পরিষদের কার্যক্রম একপ্রকার সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ ও নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ নানাবিধ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। একইসঙ্গে থমকে গেছে সরকারি নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর দৌলতদিয়া ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকনউজজামান এবং দেবগ্রামে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবা চালু রাখতে স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অস্থায়ী ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কিন্তু ৩০ জুন বদলিজনিত কারণে দৌলতদিয়ার প্রশাসক দায়িত্ব ছাড়েন এবং ৪ জুলাই দেবগ্রামের প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে দুই ইউনিয়নের পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সোমবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পরিষদ চত্বরে সেবা প্রত্যাশীদের ভিড় থাকলেও কার্যত সব দরজা বন্ধ। কেউ ট্রেড লাইসেন্স নিতে, কেউ জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে, কেউবা ওয়ারিশ সনদের জন্য এসেও হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
দৌলতদিয়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাইনদ্দিন পাল বলেন, “জমির খারিজের জন্য দ্বৈত প্রত্যয়ন দরকার। সাত দিন ধরে আসছি, কোনো কাজ হচ্ছে না।”
পূর্বপাড়া গ্রামের মোছা. শিরিন আক্তার জানান, “মেয়ের জন্মসনদে ভুল আছে। সংশোধনের জন্য কয়েকবার এসেছি, কিন্তু কেউ নেই।”
একই দুর্ভোগের কথা বলেন মো. সজীব হোসেন, “মায়ের মৃত্যু সনদের জন্য ৬ দিন ধরে ঘুরছি, এখনও কোনো সুরাহা হয়নি।”
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, গত ২০ দিনে নাগরিক সনদের জন্য ১৬০টি, ট্রেড লাইসেন্সের ১০টি, ওয়ারিশ সনদের ১৭টি এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু প্রশাসকের স্বাক্ষর না থাকায় কোনো আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে না। দেবগ্রাম ইউনিয়নেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এ সংকটের প্রভাব পড়ছে আর্থিক লেনদেনেও। ব্র্যাক ব্যাংক গোয়ালন্দ শাখার রিলেশনশিপ কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, “ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদ না থাকায় অনেক গ্রাহক ঋণ ও অন্যান্য সেবা পাচ্ছেন না।”
দেবগ্রাম ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, “চেয়ারম্যান বা প্রশাসক না থাকায় কিছুটা জটিলতা হচ্ছে। তবে পূর্ব নির্দেশনা অনুসারে জরুরি কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি।”
দৌলতদিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মেনামুল হোসেন মিন্টু জানান, “সাক্ষরের অভাবে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা হচ্ছে, যেন প্রশাসক আসলে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।”
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেন, “দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মধ্যে একজন বদলি হয়েছেন, অন্যজনের মেয়াদ শেষ। নতুন প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে। আশা করছি, দ্রুত নিয়োগ হবে।”
এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে স্থানীয় সরকারের মূল ভিত্তি। সেখানে কার্যক্রম বন্ধ থাকলে জনআস্থা নষ্ট হয়। তারা অবিলম্বে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন।