গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি,
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ। প্রতিদিন সেখানে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক হাজার বিভিন্ন গাড়ি ফেরিপারাপার হয়। সার্বক্ষণিক ফেরিসার্ভিস চালু থাকলেও চলাচলকারি ফেরিগুলোতে নিয়মিত পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা নেই। এ সুযোগে ওই নৌপথে দুর্বৃত্তদল ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতি রাতে সেখানে চলন্ত ফেরিতে জুয়ার আসর, ছিনতাই ও পকেটমারের ঘটনা ঘটছে। দুর্বৃত্তদের শিকার হয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়াচ্ছেন ফেরিযাত্রীদের অনেকে।
এদিকে নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় দৌলতদিয়া পাটুরিয়া উভয় ঘাটে নৌপুলিশের পৃথক দুটি ফাঁড়ি রয়েছে। তা সত্বেও তিন কিলোমিটার ওই নৌপথ অনেকটা ‘অরক্ষিত’ অবস্থায় রয়েছে।
নৌপুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই ফাঁড়িতেই ফোর্স সংকট রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্পীডবোট না থাকায় চলাচলকারি ফেরিসহ নৌপথে নিয়মিত পুলিশি টহল ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। প্রতিদিন সেখানে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক হাজার বিভিন্ন গাড়ি ফেরিপারাপার হয়। ওই নৌপথে দিন-রাত সার্বক্ষণিক ফেরিসার্ভিস চালু থাকলেও চলাচলকারি ফেরিগুলোতে নিয়মিত পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা নেই। এ সুযোগে উভয় ঘাট এলাকার একদল দুর্বৃত্ত রাতের অন্ধকারে ট্রলার নিয়ে এসে যাত্রীবেশে তারা চলন্ত ফেরিতে গিয়ে উঠে। পরে সুযোগ বুঝে ফেরির ভিতরে মোমের আলো জ্বালিয়ে নিজেদের মধ্যে নগদ টাকার জুয়া খেলার আসর বসায় তারা। প্রলুব্ধ হয়ে ওই জুয়া খেলায় অংশ গ্রহণ করে ফেরিযাত্রীদের অনেকেই। সেখানে জুয়া খেলার ওই ফাঁদে ফেলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসেটসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়। শেষে ঘাটে ভেরার আগেই চলন্ত ফেরি থেকে ট্রলারে নেমে দুর্বৃত্তরা নদীর ভাটিপথে দ্রুত পালিয়ে যায়।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারি এক রো রো (বড়) ফেরির মাস্টার (চালক) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই নৌরুটে চলন্ত ফেরিতে জুয়ার আসর বসানো, ছিনতাই ও পকেটমারের বিষয়টি নতুন নয়। দিনের আলোয় না থাকলেও রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। যাত্রীনিরাপত্তায় পুলিশি প্রহরা না থাকায় রাতে চলাচলকারি ফেরিগুলো সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে।’
বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘এই নৌরুটে রাতের বেলা চলাচলকারি ফেরিগুলোতে যাত্রীনিরাপত্তায় পুলিশি পাহারা থাকা খুব জরুরী।’
এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল কবির বলেন, ‘দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ায় নৌপুলিশের দুটি ফাঁড়িতেই ফোর্স সংকট রয়েছে। পাটুরিয়া ঘাট ফাঁড়িতে কোন স্পীডবোট নেই। দৌলতদিয়া ঘাট ফাঁড়ির একটি স্পীডবোট থাকলেও দীর্ঘ দিন যাবত তা বিকল হয়ে আছে। তাই ফেরিসহ নৌপথে নিয়মিত পুলিশি টহল ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চলন্ত ফেরিতে জুয়ারু, ছিনতাই ও পকেটমার দলে জড়িতদের গ্রেপ্তার করার জন্য আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।