স্টাফ রিপোর্টারঃ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের টানা তৃতীয় দিনের ধর্মঘট শেষে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটে সোমবার সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মঘট শেষে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, ফেরি কম ও ঘাট স্বল্পতার জন্য এই সারি বলছে ঘাট কতৃপক্ষ।
সোমবার (০৮ নভেম্বর) সকাল থেকে ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় রয়েছে বিভিন্ন যাত্রীবাহি বাস ও পণ্যবাহি ট্রাক। তবে এর মধ্যে পণ্যবাহি ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। প্রতিটা পণ্যবাহী ট্রাককে ১২-২৪ ঘন্টা ও যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেরি পেতে।
আটকে থাকা গাড়িচালক, সহকারী ও বাসের যাত্রীদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেকসময় পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও সহকারীদের গাড়ির ভেতরেই ঘুমাতে দেখা যায়।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকামুখী গাড়িগুলো ফেরিঘাটের দিকে এক কিলোমিটার রাস্তা যেতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। মহাসড়কের পাশে খাওয়াদাওয়া ও টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা। গাড়ি ছেড়ে বাইরে অন্য কোথাও যেতেও পারছেন না বলে জানান তাঁরা।
বেনাপোল থেকে চট্রগ্রাম গামী ট্রাকের চালক আলামিন জানান, রোববার ধর্মঘট শেষে রাতে ঘাট এলাকায় আসেন তিনি। প্রায় ১৮ ঘণ্টায় তিনি ঘাট এলাকার কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো ব্যবস্থা হলো! এখন আর কুলাতে পারছি না। ফেরিতে উঠতে আর কয় ঘণ্টা সময় লাগবে সেটাই ভাবছি। আমার পেছনে আরও কয়েক শ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান আটকায় আছে। যাত্রীবাহী গাড়ির সঙ্গে পাশাপাশি কিছু পণ্যবাহী গাড়িও ফেরিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সিহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে মোট ১৮ টি ফেরি চলাচল করছে। ৫ টি ঘাটের মধ্যে ৩ নম্বর ঘাট বড় করা হলেও পানি কমে যাওয়ায় অপসারণ করে ৮ নং ঘাট করা হবে দ্রুতই। তাতে ফেরি চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং যানযট কিছুটা হলেও কমবে। আবার বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথের যানবাহন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ব্যবহার করায় গাড়ির বাড়তি চাপ পড়ছে।