শিরোনাম
রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের রাজবাড়ীতে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৮ আসামি গ্রেপ্তার কালুখালীতে কৃষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন শেখ গ্রেপ্তার পরকীয়ার অভিযোগে ভাঙল ২৪ বছরের সংসার, নিঃসঙ্গ রফিকের দিন কাটে হতাশায় কালুখালীতে ঢাকা শিশু সংসদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন, পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ গোয়ালন্দে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গোয়ালন্দে কৃষক-কৃষাণিদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৮ আসামি গ্রেপ্তার দৌলতদিয়া পদ্মায় নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার সড়ক নিরাপত্তায় গোয়ালন্দ মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

দৌলতদিয়া টার্মিনালে নানা খাতে অর্থ আদায়, প্রশ্নের মুখে পরিবহন ব্যবস্থাপনা

স্টাফ রিপোর্টার / ১১৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে শত শত বাস ছেড়ে যাচ্ছে। তবে যাত্রী পরিবহনের আগে বিভিন্ন খাতে বাসপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট। ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাসগুলো টার্মিনাল থেকে ছাড়ার আগে ডিপার্চার, সিরিয়াল ও কাউন্টার চার্জ’সহ বিভিন্ন নামে অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব খাতে প্রতিটি বাসের কাছ থেকে মোট আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

ঈদের যাত্রী নিতে আসা কয়েকজন বাসচালক ও সুপারভাইজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতিরিক্ত এই ব্যয় শেষ পর্যন্ত পরিবহন পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাদের ভাষ্য, কাউন্টার চার্জ, সিরিয়াল ফি ও ডিপার্চার বাবদ অর্থ পরিশোধ না করলে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।

বরিশালগামী একটি বাসের সুপারভাইজার বলেন, দৌলতদিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে বের হতে কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে সমস্যায় পড়তে হয়।

যশোর থেকে আসা এক চালক জানান, ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে বাস আনা হলেও টার্মিনালে এসে নানা খাতে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তার দাবি, কাউন্টার, সিরিয়াল ও ডিপার্চার বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়।

অন্যদিকে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ মৌসুমে এসব খরচ আরও বেড়ে যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি খোন্দকার মাহমুদুল হক জুয়েল বলেন, ডিপার্চার বাবদ যে অর্থ নেওয়া হয় তা শ্রমিক কল্যাণ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়।এ বিষয়ে পরিবহন মালিকদের কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

ডিপার্চার বাবদ অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান, তিনি মালিক সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করেন। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই অর্থ নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সমিতিই বিস্তারিত বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ এখনো প্রশাসনের কাছে আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে টার্মিনাল এলাকায় অর্থ আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি, আদায়কৃত অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যয় করা হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg