স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর পাংশায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন জসিম উদ্দিন নামে এক ভেটেরিনারি চিকিৎসক।
তাঁর দাবি, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের বিলচত্রা গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জসিম উদ্দিন জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর বাবা বিলচত্রা গ্রামের মৃত কুরবান আলীর কাছ থেকে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কেনেন। পরবর্তী সময়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হলেও ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। কুরবান আলীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে ওহেদুজ্জামান ওরফে ওলপেদ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, গত ২৭ আগস্ট ওহেদুজ্জামান জোরপূর্বক বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা পাংশা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে থানায় বসে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত দিনে উভয় পক্ষের আলোচনায় বসার আগেই প্রতিপক্ষ চলে যান বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, জমির বিরোধের ঘটনায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করা হয়। এ বিষয়ে পাংশা থানা থেকে নোটিশ জারি করা হলেও আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ ওই জমিতে টিনের বেড়া ও ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ওহেদুজ্জামান তাঁর কথিত ভাতিজি উম্মে হাবিবা বৃষ্টিকে দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করিয়েছেন।
মামলাটিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে তিনি এর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় চায়ের দোকানদার মো. আনিসুর রহমান ও মো. উজ্জ্বল হোসেন দাবি করেন, ওই এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা তাঁদের নজরে আসেনি। তাঁদের ভাষ্য, আশপাশে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তাঁরা তা জানতে পারতেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওহেদুজ্জামান ও মামলার বাদী উম্মে হাবিবা বৃষ্টি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই), ফরিদপুরের উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় দে বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।