শিরোনাম
গোয়ালন্দে স্কুলের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে তোলপাড়, অভিযোগ ক্লাব সভাপতি ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঈদ উপলক্ষে রাজবাড়ীতে ওয়ান নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে মাদক নির্মূলে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম গোয়ালন্দে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ দৌলতদিয়ায় আবারও ‘ডিপার্চার চার্জ’ আতঙ্ক বালিয়াকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ভুয়া ডিবি সেজে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, সাহসী ইজিবাইক চালককে পুরস্কৃত করলেন এসপি দৌলতদিয়া ঈদযাত্রা প্রস্তুতি সভায় প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি বাস মালিক নেতার রাজবাড়ীতে চাকরি না পাওয়ার ক্ষোভে বিদ্যালয় মাঠ দখল করে পাট চাষের অভিযোগ গোয়ালন্দে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন

গোয়ালন্দে স্কুলের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে তোলপাড়, অভিযোগ ক্লাব সভাপতি ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চৌধুরী আবদুল হামিদ একাডেমি প্রাঙ্গণের দুটি পুরাতন মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বরাট ক্লাব হাউজের সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মোল্লার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের সম্পত্তি হিসেবে থাকা গাছ দুটি যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগও পূর্বে অবগত ছিল না বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, বিদ্যালয় চত্বরের ভেতর থেকে কাটা দুটি মেহগনি গাছ স্কুলের পাশেই ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, গাছগুলোর বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে, তবে তড়িঘড়ি করে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় যুবক রাশেদ জানান, শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি রয়েছে এমন কথা বলে জাহাঙ্গীর মোল্লা, তাওহীদ চৌধুরী, সজল চৌধুরীসহ কয়েকজন ব্যক্তি গাছ বিক্রির উদ্যোগ নেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আপত্তি জানান এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গাছ সরিয়ে না নেওয়ার অনুরোধ করেন।

আরিফুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ বলেন, গাছ কাটার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় গাছ কেটে বিক্রি করার ঘটনায় এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক অভিযোগ করেন, গত বছরের আগস্টের পর বরাট ক্লাব হাউজের কমিটি পুনর্গঠন করা হলেও অনেককে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। দীর্ঘদিন ক্লাব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এলাকার তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করেই গাছ কাটা হয়েছে। তার দাবি, গাছগুলো একসময় ক্লাবের উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছিল। বিক্রির অর্থের একটি অংশ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার স্থানান্তর ও নির্মাণকাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

চৌধুরী আবদুল হামিদ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালে গাছ কেটে বিক্রির ঘটনা ঘটবে, তা তিনি ধারণা করেননি।

  • উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, তিনি কাউকে গাছ কাটার অনুমতি বা নির্দেশ দেননি। আলোচনার সময় তিনি কেবল নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছিলেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রশাসনিক অনুমোদন অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি আইনবহির্ভূতভাবে গাছ কেটে বিক্রি করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg