স্টাফ রিপোর্টার: গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য সামাজিক শালিশ বা সালিশি বিচার। পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, দেনা-পাওনা কিংবা সামাজিক নানা বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে গঠিত এই শালিশ ব্যবস্থা একসময় ছিল সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক এলাকায় এই সামাজিক বিচার ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে শালিশদারদের ‘সম্মানী’ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে দেখা দিয়েছে জনমনে উদ্বেগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক শালিশে যারা বিচারকের ভূমিকায় থাকেন, তারা প্রকৃত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নয়, বরং পক্ষ বিশেষের হয়ে কথা বলার বিনিময়ে সম্মানী গ্রহণ করেন। কখনো রাজনৈতিক প্রভাব, কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে গঠিত হয় শালিশ বোর্ড। ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতার পরিবর্তে প্রাধান্য পায় ক্ষমতার ভারসাম্য।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, অনেক সময় সেই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সামাজিক বিচার বা নালিশ কার্যক্রমের কাঠামো। বিচার শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে শালিশদাররা পদমর্যাদা অনুযায়ী ‘সম্মানী’ বুঝে নেন। কেউ কম, কেউ বেশি পেলেও তা নিয়েও অনেক সময় তৈরি হয় মনোমালিন্য।
একাধিক সচেতন নাগরিক জানান, সামাজিক শালিশের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিরোধ নিষ্পত্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা। কিন্তু যখন বিচারক নিজেই আর্থিক সুবিধার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তখন সেই বিচার আর নিরপেক্ষ থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং সামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, সামাজিক শালিশ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা। শালিশদারদের সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করতে হবে, ব্যক্তিগত লাভের আশায় নয়। অন্যথায় গ্রামীণ সমাজে ন্যায়বিচারের এই পুরোনো কাঠামো একসময় পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
সচেতন মহলের দাবি, সামাজিক বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষ আবারও এই ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরে পাবে।