শিরোনাম
রাজবাড়ীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর কলেজছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার গোয়ালন্দে মা ইলিশ রক্ষায় যৌথ অভিযান, ৫৫০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ গোয়ালন্দে আইএফআইসি ব্যাংকের অবিচল বিশ্বাসে ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন পাংশায় প্রবাসীর মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ, লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় রাজবাড়ীর জেলেরা গোয়ালন্দে এসিল্যান্ডের অভিযান বালুবাহী ৬ ট্রাক জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গোয়ালন্দে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন শত শত মানুষ দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসন, স্থানীয়দের এক হওয়ার আহ্বান গোয়ালন্দে ইউসিবি ব্যাংকের নতুন এজেন্ট শাখার উদ্বোধন গোয়ালন্দে ভেজা বালি পরিবহন, ছয় ড্রাম ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সরকারি হাসপাতালের ওষুধ নয়ছয়, দুর্ভোগ রোগীদের

ষ্টাফ রিপোর্টার | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৫২১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

0Shares

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের রোগীর ওষুধ দিয়ে ভিআইপি মহলের সেবা চলছে। হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও সেই ওষুধ সরকারি হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা স্লিপের মাধ্যমে উওোলন করে নিচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীদের বাড়তি টাকা দিয়ে হাসপাতালের বাহিরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে সমাজের অসহায়, গরিব, নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের জন্য সরকার ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু সেইসব ওষুধ মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার ও স্টাফরা নিজেরাই স্লিপ লিখে ইচ্ছেমত ওষুধ নিয়ে যায়। সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে হাসপাতালের ফার্মেসী থেকে সরকারি ওষুধ পাচার করা হয়। ফলে বিভিন্ন সময় সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হয়। কিন্তু এর প্রতিরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই।
মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডাঃ কাজী সাদিয়া হাসপাতালের ফার্মেসী থেকে ১০ পাতা ইসোরাল(২০), ৫ কৌটা ক্যালসিয়াম, ৬ পাতা লুমনা ওষুধ নিচ্ছেন। ফার্মেসীর ভেতরে থেকে হাসপাতালের মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট রঞ্জিত ওষুধের স্লিপ না দিয়েই ওষুধ নিয়ে যান। এছাড়া ঝাড়ুদার, টেকনোলজিস্ট ও নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতালে কর্মরত অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের খেয়াল খুশি মত ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিয়ে যান বলে স্বীকার করেন হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ফার্মেসী থেকে ওষুধ নেওয়ার কথা স্বীকার করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডাঃ কাজী সাদিয়া বলেন, আমার বাসার লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কয়েকদিনের ওষুধ নিয়েছি। ওষুধ তো আমি একা নেইনা। হাসপাতালের সবাই এভাবে ওষুধ নেয়। আপনারা যদি এটাকে সমস্যা মনে করেন তাহলে আমি ওষুধ ফেরত দিয়ে দিব।
মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ফার্মেসীর ইনচার্জ মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, হাসপাতালের স্টাফরা অনেক সময় স্লিপ নিয়ে আসে আবার অনেক সময় স্লিপ থাকেনা। একই জায়গায় করি বলে অনেক সময় এমনিতেই ওষুধ দিতে হয়। সবসময় তোর আর স্লিপ চাওয়াও যায়না। রেজিস্টারে ওষুধের হিসাব মেলান কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওষুধ দেওয়ার পরে আমরা নিজেরাই ডাক্তারের কাছ থেকে স্লিপ লিখিয়ে হিসেব মিলিয়ে দেই।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আরশ^াদ উল্লাহ বলেন, অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা আমার কাছে এসে ওষুধ নিয়ে যায়। তাদের তো কাউন্টারেও পাঠাইনা। আমার অফিসের পিয়ন দিয়ে ওষুধ আনিয়ে তাদের চাহিদা মতো দিয়ে দেই। আর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছু ওষুধ নিতেই পারে। এ নিয়ে তো কথা বলার কিছু নেই।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg