পদ্মা ব্যারেজ ও নৌবন্দর হলে বদলে যাবে গোয়ালন্দ
স্টাফ রিপোর্টর” রাজবাড়ী জেলা দেশের অন্যতম সেরা জনপদে পরিণত হতে পারে যদি পদ্মা ব্যারেজ, পদ্মা সেতু ও নৌবন্দর গড়ে তোলা যায়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, শিল্পকারখানা স্থাপন হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব হবে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার লোকমান টাওয়ারে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
তিনি বলেন, জেলার উন্নয়নের জন্য পদ্মা সেতু, পদ্মা ব্যারেজ, কালুখালী ক্যান্টনমেন্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, নদীবন্দর ও রেলপথ উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা স্থাপন হবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
ভারতের ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯৬২ সালে এই বাঁধ দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ আবাদি জমি পানির অভাবে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভারত উজানে আরও ৭২টি বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং ৩২টি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করেছে। ফলে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে কৃষি ও পানীয় জলের জন্য ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে পারে।
খৈয়ম বলেন, আমরা একসময় পদ্মা সেতু ও নদী রক্ষা কমিটি করেছিলাম। কিন্তু তখনকার ক্ষমতাসীনরা আন্দোলনে পাশে দাঁড়ায়নি। যদি তারা সহযোগিতা করতো, পদ্মা সেতু হয়তো রাজবাড়ীতে হতে পারতো।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের সেবার জায়গা। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিকতা দিয়েই রাজনীতি হওয়া উচিত। পদ্মা ব্যারেজ ও নৌবন্দর নির্মিত হলে রাজবাড়ী নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি ও অর্থনীতিতে সোনালী সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ সুলতানুর ইসলাম মুন্নু সভাপতিত্ব করেন। মতবিনিময় শেষে খৈয়ম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।