রাজু আহমেদ, (রাজবাড়ী) উজান থেকে নেমে আসা ঢলে প্রতিদিনই বাড়ছে রাজবাড়ীর নদনদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সব পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এতে পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও এখনো পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দৌলতদিয়া পয়েন্ট: পানি ৮.০০ মিটার, বিপৎসীমার ২০সেন্টিমিটার নিচে।মহেন্দ্রপুর পয়েন্ট: পানি ৮.৮৮ মিটার (বিপৎসীমা ১০.৫০ মিটার)।পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্ট: পানি ৯.৮৭ মিটার (বিপৎসীমা ১০.৫২ মিটার)।কামারখালী ব্রিজ পয়েন্ট (গড়াই নদী): পানি ৭.৪৮ মিটার (বিপৎসীমা ৭.৭৫ মিটার)।গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দে পানি বেড়েছে ৯ সেন্টিমিটার, মহেন্দ্রপুরে ৬ সেন্টিমিটার, পাংশায় ৫ সেন্টিমিটার এবং কামারখালীতে ৩ সেন্টিমিটার।
পানি বৃদ্ধির কারণে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর, চর সেলিমপুর, কালিতলা ও মেছোঘাটায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।দৌলতদিয়ার মুন্সিপাড়া এলাকায় কাউলজানি গ্রামের প্রায় ৬০-৭০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনের কারণে কয়েকটি ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। বাকি ফেরিঘাটগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়ার ৩ ও ৪নং ফেরিঘাটে ফেরি ভিড়তে পারছে না।
বর্তমানে শুধুমাত্র ৭নং ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এতে ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম জানিয়েছেন, ভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
তবে এখনো কোনো নিচু এলাকা প্লাবিত হয়নি। আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন পদ্মার পানি সমতল আরও বাড়তে পারে এবং সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এ সময়ে রাজবাড়ীসহ ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।