স্টাফ রিপোর্টার:
রাজবাড়ীর পদ্মাপাড়ে শিল্প, প্রকৃতি ও নদীকেন্দ্রিক জীবনের অপূর্ব মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবে যুক্ত হলো নতুন নান্দনিক স্থাপনা ‘জলাঙ্গী’। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টায় রাজবাড়ী জেলার জেলা প্রশাসক জনাব সুলতানা আক্তার প্রবহমান পদ্মা নদীর তীরে মৌলভীর ঘাট এলাকায় এই শিল্পভাস্কর্যের শুভ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. হুমায়ুন কবীরসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একখণ্ড সুনীল আকাশ, নির্মল মেঘমালা ও বিকেলের মৃদুমন্দ হাওয়ার আবেশে নদীর পাড়ঘেঁষে স্থাপিত রাজসিক আসন থেকে পদ্মাতীরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ এনে দেবে এই ‘জলাঙ্গী’। ইতোমধ্যে ‘পদ্মাপুলক’ ও ‘জলকাব্য’ ভাস্কর্যের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করা পদ্মাপাড়ে এবার যুক্ত হলো ছুটে চলা একঝাঁক ইলিশের প্রতীকী শিল্পরূপ ‘জলাঙ্গী’, যা রাজবাড়ীর পর্যটনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
উজানের দিকে ছুটে চলা শত শত ইলিশের প্রতীকী অবয়বে নির্মিত এই স্থাপনাটি নদীকেন্দ্রিক বাংলার চিরায়ত জীবনধারা, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক জীবন্ত কবিতারূপে ফুটে উঠেছে। শিল্পভাষায় নদী ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে ধারণ করা এই ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের কাছে হয়ে উঠবে ভিন্নমাত্রার নান্দনিক অভিজ্ঞতা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জনাব সুলতানা আক্তার বলেন, পদ্মাপুলক ও ‘জলকাব্য’র পর তীরকেন্দ্রিক এই নতুন ভাস্কর্য অবকাশ, সৌন্দর্য ও পর্যটনের এক অনন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
তিনি আরও জানান, পদ্মাপাড়কে ঘিরে একটি পরিকল্পিত ও পর্যটনবান্ধব নগরী গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই শিল্পভাস্কর্য বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের নিরলস প্রচেষ্টা, নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিবেশবান্ধব চিন্তার ধারাবাহিকতায় নির্মিত ‘জলাঙ্গী’ শহুরে জীবনের ক্লান্ত মানুষ ও পর্যটকদের জন্য নদীর ধারে বসে প্রশান্তি, স্বস্তি ও সুখানুভূতি উপভোগের এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।