স্টাফ রিপোর্টার: সংসারের অভাবে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসানের শখের সাইকেলটি বিক্রি করে দিতে হয়েছিল তার দিনমজুর বাবাকে। কিন্তু সাইকেল বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে বাবা-ছেলের কান্না দেখে এগিয়ে আসেন রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও আসন্ন পৌর নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম রোমান। পরে সাইকেলটির মূল্য পরিশোধ করে সেটি আবার জিসানের হাতে তুলে দেন তিনি।
রোববার (২ আগস্ট) রাজবাড়ী পৌর শহরের পুরাতন বাইসাইকেলের হাটে ঘটে হৃদয়ছোঁয়া এ ঘটনা।
জানা যায়, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রিপন শেখ বর্তমানে রাজবাড়ী পৌর শহরের ফুলতলা এলাকায় বসবাস করেন। দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান তিনি। তবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন রিপন।
সংসারের খরচ মেটাতে উপায়ন্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে জিসানের বহু শখের সাইকেলটি মাত্র চার হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি।
সাইকেলটি বিক্রি করে বাবা-ছেলে যখন হাট থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন তাদের কান্না নজরে পড়ে আরিফুল ইসলাম রোমানের। কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে চাইলে পুরো ঘটনা তার কাছে খুলে বলেন রিপন শেখ। বিষয়টি শুনে তিনি সাইকেলটির বিক্রয়মূল্য পরিশোধ করে সেটি আবার জিসানের হাতে তুলে দেন। প্রিয় সাইকেলটি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে জিসান। আনন্দে কেঁদে ফেলে সে।
জিসান বলে, সাইকেলটা আমার খুব প্রিয় ছিল। বিক্রি হয়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আবার ফিরে পেয়েছি, আমি খুব খুশি। আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করে বড় মানুষ হতে চাই।
জিসানের বাবা রিপন শেখ বলেন, অভাবের কারণে ছেলের শখের সাইকেল বিক্রি করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। সাইকেল বিক্রি করে ফেরার সময় আমরা দুজনেই কান্না করছিলাম। তখন রোমান ভাই আমাদের ডেকে সব কথা শুনে সাইকেলটি ফিরিয়ে দেন। এই উপকার কোনোদিন ভুলব না।
আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, একজন বাবার অসহায়ত্ব আর একটি শিশুর কান্না আমাকে নাড়া দিয়েছে। একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমি আনন্দিত। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ অসহায়দের পাশে দাঁড়ালে অনেক পরিবারের কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে।
ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা হাটে উপস্থিত অনেকেই রোমানের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, আর্থিকভাবে ছোট একটি সহায়তাও অসহায় কোনো পরিবারের জন্য হয়ে উঠতে পারে বড় স্বস্তির কারণ। আর জিসানের মতো একটি শিশুর মুখে হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার দৃষ্টান্ত তৈরি করে।