শিরোনাম
রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা মামলায় মিলনের যাবজ্জীবন পাংশায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পূজা কমিটির নেতাদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় গোয়ালন্দে শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা মামলায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গোয়ালন্দে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল রাজবাড়ীর নতুন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন নামজারি ফি ১,১৭০ টাকা, গোয়ালন্দে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলেই এসিল্যান্ডকে জানানোর আহ্বান রাজবাড়ীতে মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী সদর ইউএনও নিরুপমা রায়ের বিদায় বার্তা, পদ্মাকন্যা রাজবাড়ী হৃদয়ে থাকবে গোয়ালন্দে ওজন স্কেলে অভিযান: অতিরিক্ত ওজনের ৫ পরিবহনকে জরিমানা

পেঁয়াজের ফুলে স্বপ্ন বুনছেন তরুণ উদ্যোক্তা হুমায়ুন আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার / ১২৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার।।  
পেঁয়াজের সাদা ফুল শুকিয়ে যে কালো বীজ তৈরি হয়, তার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। এই বীজই কৃষকদের কাছে পরিচিত ‘কালো সোনা’ নামে। লাভজনক এই পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ুন আহমেদ।

কৃষি খাতে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য ইতোমধ্যেই জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ। ধান, সবজি ও নানা ফসল উৎপাদনে সফল এই উদ্যোক্তা এবার প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে বিদেশি উন্নত জাতের পেঁয়াজ বীজের আবাদ করেছেন। তার দাবি, এই বীজ থেকে উৎপাদিত চারায় প্রতি বিঘায় (৩৩ শতাংশ) ১২০ থেকে ১৫০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাতাসে দোল খাচ্ছে সাদা ফুল, যার প্রতিটি কদমেই লুকিয়ে আছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজের বীজ।

সরেজমিনে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তোরাপ শেখের পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেতের প্রতি তিন থেকে চার সারি পেঁয়াজ গাছের মাঝখানে জাল দিয়ে আলাদা করে উপরের দিকেও জাল টানানো হয়েছে। এ বিষয়ে হুমায়ুন আহমেদ জানান, পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি তুলনামূলক বেশি হয়। ঝড়ের সময় গাছ যাতে পড়ে না যায় এবং ফুল নষ্ট না হয়, সে কারণেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলা বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের প্রায় ১৪ শতাংশই আসে এই জেলা থেকে। এখানে কেবল পেঁয়াজ আবাদ নয়, বিপুল পরিমাণে কদম পেঁয়াজ বীজের চাষও হয়ে থাকে।

জেলার পেঁয়াজ চাষে প্রয়োজনীয় অধিকাংশ বীজ স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত হয়। এসব বীজ জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়। বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ায় চাষি ও কৃষি বিভাগের কাছে এই বীজ ‘কালো সোনা’ নামেই পরিচিত।

চাষিদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে পেঁয়াজ বীজ চাষে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ করা সম্ভব। এক বিঘা জমিতে বীজ উৎপাদনে খরচ পড়ে আনুমানিক দেড় লক্ষ থেকে এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা, আর বিক্রি হতে পারে সাত থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রায়হানুল হায়দার বলেন, এ বছর গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রায় সাত হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০ বিঘা জমির জন্য কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ আগে থেকেই একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি মানসম্মত বীজ উৎপাদন করেন এবং কৃষি খাতে তার অবদান প্রশংসনীয়।

লাভজনক হওয়ায় ‘কালো সোনা’ খ্যাত এই পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। ভবিষ্যতে এই বীজ আবাদ গোয়ালন্দ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg