আলামিন হোসেন শাকির
বিশেষ প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহমিরপুর পদ্মা নদীর চরে ৯০ বিঘা জমির ডুবে যাওয়া ফসল ঘরে আনতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্যস্ত সময় পার করছেন ২০০ কৃষক।
রবিবার (২৭ জুন) ইউনিয়নের একাধিক কৃষকের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া জমি ফিরে পেয়ে ২ বছর যাবৎ ধান ও বাদামের চাষ করে আসছেন তারা। প্রতিটি চাষে বাম্পার ফলনও পান। সম্প্রতি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরের মধ্যে চলছিল বাদামের চাষ। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হয়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাদাম গাছ পানিতে ডুবে যায়। সে কারনেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাদাম ঘরে আনতে ব্যস্ত কৃষক।
কৃষক বাদশা বিশ্বাস বলেন, পদ্মা নদীর এই চরে এবার আমরা ৯০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করি। অতি খরার কারণে আমাদের প্রায় ২০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো বাদাম ঘরে তোলার সময় হয়নি। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় আমরা প্রায় ২০০ কৃষক মাঠে নেমেছি। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার মাজা পানি। যে ফসল হয়েছে তার মধ্য থেকে প্রায় ১০ বিঘা জমির ফসল আমরা ঘরে নিতে পারব না।
কলেজছাত্র বিপুল হোসেন বলেন, আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ করে থাকি। করোনা মহামারীর কারণে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা সপরিবারে বাদাম চাষ করি। আমাদের ৯০ বিঘা জমি চাষ করতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অতি খরার কারণে এবং বর্ষার পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বাদামের যে বাজার দাম রয়েছে তাতে এবার আমরা লাভবান হতে পারব না।