নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম সোমবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান বলে জানিয়েছেন তার ভাগ্নে মনোয়ার হোসেন ডন।
মনোয়ার হোসেন বলেন, “লাইফ সাপোর্টের সবকিছু জিরো আসে। তখন মেশিন খুলে নেয়া হয়।”
ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন, ‘‘ ইসরাফিল আলম আজীবন দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন।’’ প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। ইসরাফিল আলমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
এর আগে শনিবার ইসরাফিলের বোন রুনু বলেন, ‘‘সম্প্রতি মা মারা গেছেন। এরপর বাড়ি থেকে ফিরে ভাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি এখন কোভডি-১৯ নেগেটিভ হলেও মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। চিকিৎসকরা বলেছেন তার ফুসফুস ৩০ শতাংশ কাজ করতে পারছে।”
করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার পর ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ইসরাফিল।
ইসরাফিল আলমের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে গত ৬ জুলাই। ওই সময় তাকে স্কয়ার হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।
একটু সুস্থ হয়ে উঠলে ঢাকার বাসায় চলে যান ইসরাফিল। ১৫ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসে।
পরে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা বেড়ে গেলে ১৭ জুলাই আবারও স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ইসরাফিল আলমকে।
শ্রমিক নেতা ইসরাফিল আলম ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। সেই সংসদে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি।
বর্তমান সংসদে ওই কমিটির পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাফিল আলম নিজ এলাকায় মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের লিখিত পরীক্ষা নেন। তখন বিষয়টি খুব আলোচিত হয়।
ইসরাফিল আলমের জন্ম রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামে। তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে মিটার রিডার হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন। ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন ইসরাফিল।