স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংঘটিত চুরির ঘটনায় চুরি হওয়া মালামাল এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় এবং উদ্ধারকৃত মালামাল ফেরত না পাওয়ায় ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
রবিবার (৭ জুন) দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস খোলা থাকলেও ভূমি-সংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সুমন গাঙ্গুলি জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ সময় অফিসের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতা নাসির সরদার ও তমিজউদ্দীন জানান, জমি বিক্রয়ের জন্য তাদের দাখিলা ও পর্চা প্রয়োজন। কিন্তু গত তিন দিন ধরে অফিসে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা।
জানা যায়, গত ৩১ মে সকালে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা অফিসের দরজা-জানালা ভেঙে কম্পিউটার মনিটর, সিসি ক্যামেরার সরঞ্জাম, ফ্যান, পানির মোটর, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক লাইট, তারসহ মোট ১১টি মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরির ঘটনার পর একই দিন স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী খানের ভাঙারির দোকান থেকে সিসি ক্যামেরার সরঞ্জাম, ফ্যান, পানির মোটর, ব্যাটারি, লাইট, জানালার পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় দোকান থেকে তিন বোতল বিদেশি মদও জব্দ করা হয়।
ঘটনার দিন রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চোরাই মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় ভূমি অফিসের সহকারী বেলাল মণ্ডল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই শিহাব উদ্দিন।
দুই মামলায় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী খান, তার দুই ছেলে অনিক খান ও আরিফ খানকে আসামি করা হয়। একই সঙ্গে আইয়ুব আলী খানের শ্যালক হালিম (৩৫)-কে উভয় মামলার প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার দিনই তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে বাকি তিন আসামি এখনও পলাতক থাকায় চুরি হওয়া কম্পিউটার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া মালামালও এখনো থানার জিম্মায় থাকায় সরকারি এই ভূমি অফিসের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া এবং আইয়ুব আলী খানের দোকান খোলা থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকৃত মালামাল ফেরত পেতে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, চুরির ঘটনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া মহাসড়কের পাশে অনিক খানের দোকান থেকে ১১টি চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ৯টি উদ্ধার করা হয়। এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় আইয়ুব আলী খানের শ্যালক হালিমকে আটক করা হয়। তবে বাকি মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ভূমি অফিসের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজে উপস্থিত থেকে মালামাল উদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে নামীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা দ্রুত ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা করছি।