স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণে কৃষকদের সচেতন করতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মণ্ডলপাড়া ইমামবাড়ি (মৃধা বাড়ি) প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ন্যাশনাল কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট মো. মাসুদুর রহমান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার খান এগ্রো অ্যান্ড মাশরুম ফার্মের স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান খানসহ উজানচর ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক-কৃষাণী।
বক্তারা বলেন, তামাক চাষ শুধু কৃষিজমির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাকের কারণে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষও পরোক্ষভাবে ক্ষতির শিকার হন। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় তামাক চাষ থেকে সরে এসে লাভজনক বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমির মাটির পিএইচ প্রায় ৮.৫, যা অতিমাত্রায় ক্ষারীয়। এ কারণে মাটিতে ফসফেট, জিংক ও আয়রনের উপস্থিতি থাকলেও গাছ তা পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে পারে না।
তিনি কৃষকদের ডিএপি সারের পরিবর্তে টিএসপি সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সার ছিটিয়ে প্রয়োগ না করে বীজ সারির প্রায় দুই ইঞ্চি নিচে প্রয়োগ করলে সারের অপচয় কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া জমিতে পর্যাপ্ত জিংক ও সালফার প্রয়োগ, সারা বছর কভার ক্রপ চাষ, বিনা চাষে আবাদ এবং লিগিউম বা ডালজাতীয় ফসল, বিশেষ করে ছোলা চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও জানান, তামাক চাষ পরিহার করে যারা বিকল্প ফসলের আবাদ করবেন, তাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে এবং নির্বাচিত কৃষকদের পুরস্কৃত করা হবে।