স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সোনাউল্লাহ ফকিরপাড়া এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং একই পরিবারের কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং টিনের বেড়া, দরজা ও জানালায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।
এ ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্য মাহেলা খাতুন (৬০), হানেফ আলী সরদারের স্ত্রী, গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে সোনাউল্লাহ ফকিরপাড়ার আলতাফ সরদারের ছেলে রুবেল সরদার (৩২) ও রাব্বী সরদার (২১), মজিবর সরদারের ছেলে কাউছার সরদার (১৯), মৃত লুৎফর সরদারের ছেলে আলতাফ সরদার (৫৫), মো. মজিবর সরদার (৪০) এবং মাইনুদ্দিন সরদার (৪৫)-কে।
থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পৈত্রিক ২২ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও তা কার্যকর হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুন বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্তরা বিরোধপূর্ণ জমিতে ইট-বালু ফেলে নির্মাণকাজ শুরু করলে হানেফ আলী সরদার, তার ছেলেরা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য বাধা দিতে যান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাহেলা খাতুনের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকাকালে রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি ঘরে ভাঙচুর করা হয়, যাতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তার ছেলে সামাদ সরদারের ঘর থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা, লুট করে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আলতাফ সরদার। তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। বরং তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এসে আমাদের পৈত্রিক জমিতে চলমান কাজ বন্ধ করে দেয় এবং বাধা দিলে আমার ওপর হামলা চালায়। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।