শিরোনাম
দৌলতদিয়ায় আবারও ‘ডিপার্চার চার্জ’ আতঙ্ক বালিয়াকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ভুয়া ডিবি সেজে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, সাহসী ইজিবাইক চালককে পুরস্কৃত করলেন এসপি দৌলতদিয়া ঈদযাত্রা প্রস্তুতি সভায় প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি বাস মালিক নেতার রাজবাড়ীতে চাকরি না পাওয়ার ক্ষোভে বিদ্যালয় মাঠ দখল করে পাট চাষের অভিযোগ গোয়ালন্দে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন গোয়ালন্দে ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন গোয়ালন্দে স্কুল দপ্তরীর বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নারীর রহস্য/জনক মৃ/ত্যু দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবিতে গোয়ালন্দে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

গোয়ালন্দে নির্বিচারে সড়কের বনায়নের গাছ কাটছে দুর্বৃত্তরা, দেখার কেউ নেই

স্টাফ রিপোর্টার / ৩০৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার “রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা হতে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর বেপারী পাড়া পর্যন্ত মরাপদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষা এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ইট সলিং রাস্তার দুই পাশের বনায়নের গাছ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত। গাছ কাটার এ কার্যক্রম দিনের আলোতেই চলছে, অথচ বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোটা মোটা বাবলা গাছ কেটে ঘোড়ার গাড়িতে করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় করাত কলে (স মিল)। স্থানীয়রা জানান, এসব গাছ বিক্রি করছেন দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ছাত্তার ফকিরের ছেলে ছরোয়ার ফকির। তিনি দাবি করেছেন, “রাস্তার জায়গা আমরা দিয়েছি, তাই গাছগুলো আমাদেরই।”

এ বিষয়ে আরও জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে দৌলতদিয়া ঘাট মহাসড়ক থেকে তেনাপচা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের পর সরকারিভাবে বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধের অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে ব্যাপক বনায়ন করা হয়। পরবর্তীতে এলজিইডি রাস্তা ইট সলিং করে এবং স্থানীয় জনগণকে উপকারভোগী করে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বাবলা, বকাইন, বনসিটকি, চিকরাশি প্রভৃতি গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে সেই দীর্ঘদিনের পরিবেশবান্ধব গাছগুলো নির্বিচারে কেটে উজাড় করা হচ্ছে।

স্থানীয় তেনাপচা গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান শেখও স্বীকার করেন, তিনি তিনটি বাবলা, একটি বকাইন ও একটি বনসিটকি গাছ বিক্রি করেছেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী সিদ্দিক মন্ডলের কাছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকেই তো কাটে, কেউ বাধা দেয় না। তাছাড়া গাছগুলো আমরা লাগিয়েছিলাম, তাই কেটেছি।”

স্থানীয় এক সাবেক বন কর্মকর্তা জানান, তিনি কর্মরত অবস্থায় ওই সড়কসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে সরকারি নির্দেশে বন্যা প্রতিরোধে গাছ লাগিয়েছিলেন। সেই সব গাছই আজ অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে।

এই বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বন বিভাগের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগে পরিবেশবিনাশী এই তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে শুধু পরিবেশই নয়, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে গোয়ালন্দের নদীপাড়ের এলাকাগুলো।

 

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg