স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে কার্যালয়ের নির্ধারিত কক্ষে উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনকে পাওয়া যায়নি। এ সময় অফিসকক্ষের দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন না। তবে কক্ষে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চলতে দেখা যায়।
সরকারি দপ্তরের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণকে সেবা দেওয়ার কথা। তবে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সাংবাদিকের মুঠোফোনে যোগাযোগের পর বেলা ১২টার দিকে তিনি কার্যালয়ে আসেন।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের দাবি, তিনি সকালেই অফিসে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ১২টায় অফিসে আসিনি। আমি সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে অফিসে এসেছি। অফিসে এসে অফিস সহায়কের কাছে কিছু কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ফিল্ডে গিয়েছিলাম।
তাহমিনা খাতুন জানান, তিনি সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে যোগ দিয়েছেন। তাঁর ছোট সন্তান রয়েছে। ফিল্ডের কাজ শেষে সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য তিনি বাসায় গিয়েছিলেন। পরে আবার অফিসে ফেরেন।
তিনি বলেন, তাঁদের কার্যক্রম সকাল ১০টার পর অনেক সময় ফিল্ডভিত্তিক হয়ে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত হেড অফিস থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হয়। এরপর ফিল্ডের বিভিন্ন কাজ ও মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়। ফিল্ডের কাজ শেষে প্রয়োজনীয় এন্ট্রি দেওয়ার জন্য আবার অফিসে আসতে হয়।
অফিসকক্ষে ফ্যান চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তাহমিনা খাতুন বলেন, আমি বের হওয়ার সময় একজন অফিস সহায়ককে কক্ষে রেখে গিয়েছিলাম। তাই ফ্যান বন্ধ না করার বিষয়টি আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমি মনে করি না। তবে ফ্যান চলতে থাকার বিষয়টি ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, এখন দেশের যে অবস্থা, এই মুহূর্তে লোডশেডিংয়ের সময়ে এটা মোটেও ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি আমি দেখব। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করাও প্রত্যেকের দায়িত্ব।
নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতি এবং সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।