গুজব ও ভুয়া সংবাদে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী: ফেইক নিউজ ও গুজব প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীতে ‘ফেইক নিউজ ও গুজব প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটি’র সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজবাড়ী কালেক্টরেটের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য শনাক্ত, যাচাই-বাছাই এবং প্রতিরোধসহ ফেইক নিউজ ও গুজব মোকাবিলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, ফেইক নিউজ ও গুজব প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ফেইক নিউজ ও গুজব সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই না করে কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বিশেষ করে রাজবাড়ীর অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক আইডি ও ফেসবুক পেজে গুজব বা ভুয়া সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব বা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম এ হান্নান, জেলা তথ্য অফিসার রেখা ইসলাম, জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গুজব ও ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।