স্টাফ রিপোর্টার :
রাজবাড়ীতে তেলের টাকা পরিশোধ না করে পালানোর সময় একটি গাড়ির চাপায় পেট্রল পাম্পের কর্মী রিপন সাহা (২৮) নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার গাড়িচালক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত প্রধান আসামিসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. মহসিন হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় গাড়িচালক কামাল হোসেনের স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন। পরে আদালত প্রধান আসামি আবুল হাশেম সুজন ও চালক কামাল হোসেনকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত রিপন সাহার ছোট ভাই লিটন সাহা বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় হত্যা ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। নিহত রিপন সাহার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের চর খানখানাপুর গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। তাঁর আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে অবস্থিত করিম ফিলিং স্টেশনে একটি জীপ গাড়িতে করে আসেন আবুল হাশেম সুজন ও তাঁর চালক কামাল হোসেন। তারা প্রায় পাঁচ হাজার টাকার অকটেন গ্রহণের পর মূল্য পরিশোধ না করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পেট্রল পাম্পের কর্মচারী রিপন সাহা বাধা দিলে গাড়িটি তাঁর ওপর তুলে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন সাহার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রধান আসামি আবুল হাশেম সুজন পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি অতীতে রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত নন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে মোট পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, আদালতে চালকের স্বীকারোক্তির পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।